ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি এখন তার ষষ্ঠতম বিশ্বকাপে খেলতে মাঠে নামার অপেক্ষায়।
৩৮ বছর বয়সী এই আর্জেন্টাইন তারকার বিশ্বকে জানান দেয়ার শুরুটা হয়েছিল প্রায় ২ যুগ আগে, ২০০৩ সালে বার্সেলোনার জার্সিতে।
সেদিন যে মেসি ছিলেন, আজকের মেসি তার থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন।
এখন তিনি আর আগের মতো দ্রুতগতির উইঙ্গার নন; বরং অভিজ্ঞতা, কৌশল ও খেলার গভীর বোঝাপড়ার মাধ্যমে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা এক ফুটবল শিল্পী।
বার্সেলোনায় ক্যারিয়ারের শুরুতে মেসি ছিলেন ডান প্রান্তের আক্রমণভাগের খেলোয়াড়। অসাধারণ ড্রিবলিং ও গতির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতেন তিনি।
পরবর্তীতে কোচ পেপ গার্দিওলা তাকে উইং থেকে সরিয়ে ‘ফলস নাইন’ পজিশনে খেলান। সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় আধুনিক ফুটবলের কৌশলগত ধারা।
২০০৯ সালে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ঐতিহাসিক ৬-২ গোলের জয়ে প্রথমবারের মতো ফলস নাইন ভূমিকায় দেখা যায় মেসিকে। এরপর কয়েক বছরের মধ্যে তিনি ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ২০১১ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে লা লিগায় মাত্র ৬৯ ম্যাচে ৯৬ গোল করেন তিনি।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে হয়েছে তার ভূমিকাও। বার্সেলোনা থেকে জাভি ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা বিদায় নেওয়ার পর মেসি শুধু গোলদাতা নয়, দলের মূল সংগঠক হিসেবেও দায়িত্ব পালন শুরু করেন। গোলের পাশাপাশি অ্যাসিস্টেও হয়ে ওঠেন সমান কার্যকর।
জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ সময় সমালোচনার মুখে ছিলেন মেসি। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনাল এবং টানা দুটি কোপা আমেরিকার ফাইনালে হার তাকে হতাশ করে তোলে। এক পর্যায়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছিলেন তিনি। তবে ফিরে এসে নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তোলেন।
অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান উপহার দেন মেসি। কাতার বিশ্বকাপে তার নেতৃত্ব, গোল এবং সৃজনশীলতা আর্জেন্টিনাকে তৃতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা এনে দেয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলছেন মেসি। আগের তুলনায় অনেক কম দৌড়ালেও খেলার গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষমতা ও সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতায় এখনও তিনি অনন্য।
বিশ্লেষকদের মতে, মেসির সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু গোল, ট্রফি বা ব্যক্তিগত পুরস্কার নয়; বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বারবার নতুনভাবে গড়ে তোলার ক্ষমতা। বিস্ময় বালক উইঙ্গার থেকে ফলস নাইন, সেখান থেকে প্লেমেকার এবং অবশেষে অভিজ্ঞ নেতা- প্রতিটি অধ্যায়েই তিনি ছিলেন সফল।
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকাপে হয়তো আর আগের মতো ছুটতে দেখা যাবে না তাকে। কিন্তু ফুটবল বিশ্বের বিশ্বাস, ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে মেসি এখনও আগের মতোই গুরুত্বপূর্ণ।
