বিপর্যস্ত নেপালে মৃত্যু বেড়ে ৪৬৯, আবারও ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকি

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে। বিপর্যয়ের ৪৮ ঘণ্টারও বেশি সময় পরও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হিমালয় অঞ্চলের নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তবে সীমান্তের কাছে নতুন করে তৈরি হওয়া একটি জলাধারের পানি ক্রমেই বাড়তে থাকায় সেটি যেকোনো সময় তীর উপচে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই ঝুঁকির কারণে চীনা কর্তৃপক্ষ নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে কিছু উদ্ধার কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

উদ্ধারকর্মীদের মধ্যেও দ্বিতীয় দফা বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রেড ক্রসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, সম্ভাব্য নতুন বন্যার খবরের কারণে উদ্ধারকারীরা ‘চরম সতর্ক’ অবস্থায় রয়েছেন।

নেপালের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি হিমবাহ ধসে বিশাল পানির ঢেউ তৈরি হওয়ার পর এই আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। পানির প্রবল স্রোত ঘরবাড়ি, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ভাসিয়ে নিয়ে যায়। নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত সংযোগও এতে ধ্বংস হয়েছে।

নেপালে প্রায় ৯০০ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে তিব্বতে অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ৫৫৫ পর্যটককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাটি প্রতিবছর হাজার হাজার পর্যটককে আকর্ষণ করে। বানের ঢল নেমে আসার সময়ও সেখানে প্রচুর পর্যটক থাকায় নিখোঁজদের তালিকায় ২৮ দেশের নাগরিকের নাম এসেছে।

ভয়াবহ এই দুর্যোগের পর নিখোঁজদের স্বজনদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় চাপা পড়া এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।