নাইজেরিয়ায় অপহৃত ১০০ শিক্ষার্থী উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ১৬৫ শিক্ষক-শিক্ষার্থী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
নাইজেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের একটি ক্যাথলিক স্কুল থেকে গত মাসে অপহৃত শতাধিক শিশু শিক্ষার্থী উদ্ধার করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় গণমাধ্যম ও কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ১০০ শিশু রাজধানী আবুজায় পৌঁছেছে এবং নিগার অঙ্গরাজ্যের সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে তাদের হস্তান্তর করা হবে।

একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতিসংঘের কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এএফপি জানায়, ‘তাদের কালকে নিগার স্টেট সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’

নাইজেরিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, শিশুদের চিকিৎসা পরীক্ষা চলছে এবং ডিব্রিফিং শেষে তারা পরিবারে ফিরবে।

দেশটির প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সানডে ডেয়ারও এএফপিকে নিশ্চিত করেছেন যে ১০০ শিশুকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে।

গত ২১ নভেম্বর সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা নিগার রাজ্যের আগওয়ারা জেলার পাপিরি কমিউনিটির সেন্ট মেরিস স্কুল থেকে ৩০৩ শিক্ষার্থী এবং ১২ শিক্ষককে অপহরণ করে। খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন অফ নাইজেরিয়া (সিএএন) জানিয়েছে, অপহৃতদের বয়স ১০ থেকে ১৮ বছর, ছেলে ও মেয়ে উভয়ই।

অপহরণের পর কয়েক দিনের মধ্যেই ৫০ জন শিক্ষার্থী পালিয়ে বাড়ি ফেরে। সর্বশেষ ১০০ জন উদ্ধার হওয়ার পরও ১৫৩ শিক্ষার্থী ও ১২ শিক্ষক এখনও বন্দিদশায় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর কয়েক দিন আগে পাশের কেব্বি রাজ্যের মাগা শহরের সরকারি বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২৫ জন স্কুলছাত্রীকে অপহরণ করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

কন্টাগোরা ডায়োসিসের মুখপাত্র ড্যানিয়েল আতোরি বলেন, ‘আমরা তাদের ফেরার অপেক্ষায় আছি। যদি সত্যি তারা ফিরে থাকে, তাহলে তা অত্যন্ত সুখবর। তবে আমরা এখনও সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাইনি।’

সাম্প্রতিক এ অপহরণগুলো ২০১৪ সালের চিবক শহরের ঘটনাটির পর সবচেয়ে বড় হামলা, যখন ২৭০ জনেরও বেশি ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়েছিল। ২০১৪ সালের পর বিভিন্ন ঘটনায় ১,৪০০ এর বেশি শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন যে নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টানরা গণহত্যার শিকার। তবে নাইজেরিয়ার সরকারি কর্মকর্তা ও খ্রিস্টান সংগঠনগুলো এই দাবি নাকচ করেছে। তাদের মতে, দেশটির সহিংসতায় বিভিন্ন ধর্মের মানুষই ক্ষতিগ্রস্ত।

নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কিমিয়েবি ইবিয়েনফা বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে এটা সত্য, কিন্তু সেগুলো শুধুই খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে নয়। মুসলিম নিহত হয়েছে, ঐতিহ্যিক উপাসকরাও নিহত হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ নিহত খ্রিস্টান নয়।’

ট্রাম্প নাইজেরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন এবং দেশটিকে দেওয়া সহায়তা কমানোর কথাও বলেছেন।

২০ কোটির বেশি মানুষের দেশ নাইজেরিয়া মূলত দু’ভাগে বিভক্ত উত্তরাঞ্চল প্রধানত মুসলিম, দক্ষিণাঞ্চল প্রধানত খ্রিস্টান অধ্যুষিত। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির ৫৬ শতাংশ মুসলিম এবং ৪৩ শতাংশের বেশি খ্রিস্টান।

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা চলমান, যা মূলত মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও সময়ে সময়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।