খামেনির শেষ বিদায়ে লাখো মানুষের ঢল, হরমুজে ফের জাহাজে হামলায় উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে ঘিরে দেশজুড়ে চলছে শোকের আবহ। এরই মধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে একটি তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়িয়েছে।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিয়ে আবারও কূটনৈতিক বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ইরানের ধর্মীয় নগরী কোমে খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।

এর আগে তেহরানে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শোক মিছিলে অংশ নেয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন বলে জানায় ইরান।

এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমান উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে জাহাজে আগুন লাগলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যম দাবি করেছে, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সহায়তায় হরমুজ প্রণালির নতুন ওমানি করিডোর ব্যবহার করতে যাচ্ছিল।

গত ২৪ জুন ওমান এবং জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নিতে ওমান উপকূল ঘেঁষে একটি অস্থায়ী নৌপথ চালুর ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই করিডোরের তীব্র বিরোধিতা করে ইরান। তাদের অভিযোগ, তেহরানের সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর কয়েক দিনের মধ্যেই ওই করিডোর ব্যবহারকারী দুটি জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে এবং পরিকল্পনাটি স্থগিত হয়ে যায়। এরপর ২৬ ও ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালায়। জবাবে ইরান বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

ইরানের দাবি, ১৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল তদারকির দায়িত্ব একমাত্র তেহরানের।

দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ হরমুজকে ইরানের ‘সবচেয়ে বড় কৌশলগত শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করেছে, অনুমোদিত পথ ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, হুমকি অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত কোনো চুক্তির আলোচনা শুরু হবে না।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘লাখো গর্বিত ইরানি আজ তাদের শহীদ নেতাকে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন। কোনো হুমকি আমাদের জনগণ বা সশস্ত্র বাহিনীকে ভয় দেখাতে পারবে না। যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের স্বাক্ষর করা সমঝোতার প্রতি সম্মান দেখাতে হবে।’

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে হয় একটি চুক্তি হবে, না হলে ‘বাকি কাজ শেষ করা হবে’। তিনি আরও দাবি করেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো অচল করে দিতে সক্ষম।