বাংলাদেশের ‘শোচনীয়’ মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন বিএনপি

দেশি-বিদেশি প্রতিবেদনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির যে চিত্র ধরা পড়েছে, তাকে ‘শোচনীয়’ হিসেবে দেখছে বিএনপি।

দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেছেন, “মানবাধিকারের এহেন শোচনীয় চিত্রে বিএনপি চরম উদ্বিগ্ন।”

গেল বছর ঢাকায় ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর থেকেই লাগামহীন মব সহিংসতার ঘটনায় মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে।

এছাড়া হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও উদ্বেগ তৈরি করে।

বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি

আইন ও সালিশ কেন্দ্র- আসক এর তথ্য অনুযায়ী, শেষ ১১ মাসে দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে হেফাজতে নির্যাতন এবং অন্যান্য কারণে ২৯ জন বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। একই সময়ে দণ্ডপ্রাপ্ত ২৮ জন এবং বিচারাধীন আরো ৫৫ জন হেফাজতে প্রাণ হারান।

এছাড়া মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৭৬টি গণপিটুনির ঘটনায় একই সময়ে ১৫৬ জন নিহত ও ২৪২ জন আহত হন। অর্থাৎ প্রতি মাসে শুধু গণপিটুনিতেই গড়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন।

উদ্বিগ্ন বিএনপি

বিএনপির দাবি, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় হেফাজতে বিচারবহির্ভূত মৃত্যুর পাশাপাশি গণপিটুনি, নারীবিদ্বেষী সহিংসতা, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং গণমাধ্যম কর্মীদের ওপর হামলা ব্যাপক বেড়েছে।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্য, “নারী ও কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা যে তলানিতে ঠেকেছে, তা প্রকাশিত প্রতিবেদনে দিবালোকের মতো পরিষ্কার।”

তার বিবৃতির ভাষ্য, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলার প্রত্যাশিত উন্নতি না হয়ে উল্টো পরিস্থিতি অধিকতর নাজুক এবং উদ্বেগজনক রূপ নিয়েছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপি বিচারবহির্ভূত হত্যা ও হেফাজতে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা আদায়ে বর্ধিত নজরদারি এবং জড়িতদের উপযুক্ত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানায়।”