মহাদেশীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ নিয়ে অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র: ভেনেজুয়েলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে (ইউএনএসসি) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে ভেনেজুয়েলা।

দেশটির দাবি, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুধু ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধেই নয়, বরং পুরো লাতিন আমেরিকাজুড়ে ‘মহাদেশীয় উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ নিয়ে একটি অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধ চালাচ্ছে।

মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের ইউএনএসসি বৈঠকে ভেনেজুয়েলার জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মনকাদা বলেন, “এটি শুধু ভেনেজুয়েলা নিয়ে নয়। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চাকাঙ্ক্ষা মহাদেশজুড়ে বিস্তৃত।”

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলেই বলা হয়েছে। এই মহাদেশের ভবিষ্যৎ তাদের হাতে।

মনকাদার ভাষ্য, “আমরা বিশ্ববাসীকে সতর্ক করতে চাই। ভেনেজুয়েলা একটি বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রথম লক্ষ্য মাত্র। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের বিভক্ত করতে চায়, যাতে একে একে আমাদের দখল করতে পারে।”

চলতি মাসের শুরুতে ‘চলমান মার্কিন আগ্রাসন’ নিয়ে আলোচনার জন্য ইউএনএসসি বৈঠক আহ্বান করে ভেনেজুয়েলা।

মনকাদা জানান, গত সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজে বিমান হামলা চালাচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের দাবি, এসব জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার করছিল। তবে এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।

ভেনেজুয়েলার অভিযোগ, এসব হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০৫ জন নিহত হয়েছেন। আইন বিশেষজ্ঞ ও লাতিন আমেরিকার একাধিক নেতা এসব ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দিলেও ওয়াশিংটন বলছে, মাদক প্রবাহ ঠেকাতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজনীয়।

ইউএনএসসি বৈঠকে মনকাদা আরও বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক আইন ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ আইন উভয়ই লঙ্ঘন করছে, কারণ কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তাঁর দাবি, গত সপ্তাহে ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকারের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ একটি সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ, যা ভেনেজুয়েলাকে অবরুদ্ধ করার শামিল।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র অন্তত দুটি ভেনেজুয়েলার তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে এবং প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল বাজেয়াপ্ত করেছে। যা তিনি ‘সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে চালানো ডাকাতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের পদক্ষেপ কোনো নৌ অবরোধ নয়; বরং কোস্টগার্ডের মাধ্যমে আইন প্রয়োগের অংশ, যার আওতায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ তল্লাশি করা হয়। আন্তর্জাতিক আইনে নৌ অবরোধকে যুদ্ধের শামিল হিসেবে দেখা হয়।

ইউএনএসসিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, লাতিন আমেরিকার মাদক কার্টেলগুলোই সবচেয়ে বড় হুমকি এবং ট্রাম্প প্রশাসন এগুলো নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ শক্তি ব্যবহার করবে।

তাঁর দাবি, ভেনেজুয়েলার তেল এসব কার্টেলের অর্থায়নের প্রধান উৎস।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র চলতি বছর ভেনেজুয়েলার ‘ত্রেন দে আরাগুয়া’সহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মাদক চক্রকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।

নভেম্বর মাসে ‘কার্টেল দে লোস সোলেস’ নামের একটি চক্রকেও তালিকায় যুক্ত করা হয়, যেটির নেতৃত্ব মাদুরোর হাতে বলে ওয়াশিংটনের অভিযোগ।

তবে মাদুরো এসব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অজুহাত বলে দাবি করেছেন।

এদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সতর্ক করে বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ভবিষ্যতে অন্যান্য লাতিন আমেরিকান দেশের বিরুদ্ধেও শক্তি প্রয়োগের ‘নজির’ হয়ে উঠতে পারে।

চীনের রাষ্ট্রদূতও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও বৈধ অধিকারকে গুরুতরভাবে লঙ্ঘন করছে।