স্পোর্টস ডেস্ক:
২০২৬ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পথ প্রায় বন্ধ হওয়ার মুখে। ভারতের বাইরে ম্যাচ আয়োজনের দাবিতে অনড় অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বোর্ডে কার্যত একঘরে হয়ে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
শেষ মুহূর্তে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সমর্থনও বিসিবির পক্ষে কোনো ফল বয়ে আনেনি।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত আইসিসির জরুরি বোর্ড সভায় বাংলাদেশের আবেদন নিয়ে ভোটাভুটি হয়। ১৬ সদস্যের বোর্ডে মাত্র দুই দেশ—বাংলাদেশ ও পাকিস্তান-বিসিবির দাবির পক্ষে ভোট দেয়। বাকি সদস্যরা ভারতের বাইরে ম্যাচ সরানোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
সভা শেষে আইসিসি বিসিবিকে কার্যত চূড়ান্ত আল্টিমেটাম দেয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিসিবিকে জানাতে হবে তারা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৮ মার্চ পর্যন্ত ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে অংশ নিতে রাজি কি না।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত না এলে বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে অন্য একটি দলকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আইসিসি সূত্রের ইঙ্গিত অনুযায়ী, সে ক্ষেত্রে গ্রুপ ‘সি’-তে বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হতে পারে।
বিসিবির একটি সূত্র জানায়, শেষ মুহূর্তে এসে আইসিসি তাদের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বদলাবেএমন সম্ভাবনা শুরু থেকেই ছিল না। পিসিবি বাংলাদেশের দাবির পক্ষে চিঠি পাঠালেও পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা বোর্ডকে রাজি করাতে ব্যর্থ হন।
আইসিসি সভায় ভারতজুড়ে টুর্নামেন্ট ভেন্যুগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি পুনরায় পর্যালোচনা করা হয়। স্বাধীন ও সরকারি নিরাপত্তা মূল্যায়নে বাংলাদেশের খেলোয়াড়, সমর্থক, গণমাধ্যমকর্মী ও কর্মকর্তাদের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য হুমকি নেই বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছায় আইসিসি। ফলে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর দাবি গ্রহণযোগ্য মনে করেনি বোর্ড।
এর আগে বিসিবি আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে গ্রুপ অদলবদলের প্রস্তাব দিয়েছিল, কারণ আয়ারল্যান্ড তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে।
তবে সেই প্রস্তাব শুরু থেকেই বাস্তবসম্মত ছিল না। ওই দিনই ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড জানিয়েছিল, আইসিসির কাছ থেকে তারা আশ্বাস পেয়েছে যে তাদের সূচি অপরিবর্তিত থাকবে। সভায়ও বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
সূচি অনুযায়ী, বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে চারটি ম্যাচ খেলার কথা। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ কলকাতায় ৭ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ৯ ফেব্রুয়ারি ইতালি এবং ১৪ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচটি ১৭ ফেব্রুয়ারি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নেপালের বিপক্ষে।
বোর্ড সভার পর এক বিবৃতিতে আইসিসি জানায়, “স্বাধীনসহ সব নিরাপত্তা মূল্যায়ন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব মূল্যায়নে ভারতে টুর্নামেন্টের কোনো ভেন্যুতেই বাংলাদেশ দল, মিডিয়া প্রতিনিধি, কর্মকর্তা কিংবা সমর্থকদের জন্য কোনো হুমকি নেই বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।”
আইসিসির এক মুখপাত্র বিসিবির আরেকটি যুক্তিও নাকচ করে দেন। তিনি বলেন, মুস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে বাদ পড়াকে নিরাপত্তা ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করা অযৌক্তিক।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আইসিসি বিসিবির সঙ্গে ধারাবাহিক ও গঠনমূলক আলোচনা করেছে, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারে। এ সময় স্বাধীন নিরাপত্তা মূল্যায়ন, ভেন্যুভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং আয়োজক দেশের আনুষ্ঠানিক আশ্বাস বিসিবিকে দেওয়া হয়েছে।
সব মূল্যায়নেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে বাংলাদেশ দলের জন্য কোনো বিশ্বাসযোগ্য বা যাচাইযোগ্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই বলে মুখপাত্র জানান।
তিনি আরও বলেন, তবুও বিসিবি একটি বিচ্ছিন্ন ও সম্পর্কহীন বিষয় একজন খেলোয়াড়ের ঘরোয়া লিগে অংশগ্রহণ এর সঙ্গে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের বিষয়টি যুক্ত করে অবস্থান ধরে রেখেছে। এই বিষয়টির সঙ্গে টুর্নামেন্টের নিরাপত্তা কাঠামো বা অংশগ্রহণের শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই।
এ অবস্থায় আগামী ২৪ ঘণ্টার সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে ২০২৬ টি টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
