মুখে হঠাৎ গুটি গুটি ফুস্কুড়ি, নাকের দু’পাশে ব্রণ, গালে লালচে র্যাশ। কিন্তু প্রসাধনী প্রায় ব্যবহারই করেন না। তা হলে সমস্যা কোথায়?
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, দোষী হতে পারে আপনার নিত্যসঙ্গী মোবাইল ফোন। দীর্ঘ সময় ফোন কানে বা গালের কাছে ধরে কথা বলার অভ্যাস থেকেই তৈরি হচ্ছে নতুন ধরনের ত্বক সমস্যা-যাকে বলা হচ্ছে ‘মেকানিক্যাল অ্যাকনে’ বা ‘সেল-ফোন অ্যাকনে’।
কী ভাবে ত্বকের ক্ষতি করছে মোবাইল?
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, মোবাইল ফোনের স্ক্রিন ও কভারে জমে থাকা জীবাণু এবং ফোন থেকে নির্গত তাপ ও নীল আলো-এই তিনের সম্মিলিত প্রভাব ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।
জীবাণুর আক্রমণ:
মোবাইল ফোন আমরা রাখছি টেবিলে, ব্যাগে, কখনও শৌচাগারেও। ফলে স্ক্রিন ও কভারে জমছে ই. কোলাই, সালমোনেলা, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, সিউডোমোনাসের মতো ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়া।
দীর্ঘ সময় গালে ফোন চেপে ধরলে সেই জীবাণু সরাসরি ত্বকে ঢুকে প্রদাহ, ব্রণ ও অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ায়।
নীল আলো ও তাপের প্রভাব:
ফোনের নীল আলো ত্বকের রন্ধ্র ভেদ করে কোলাজেনের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এর ফলে ত্বকের উজ্জ্বলতা কমে, দাগছোপ ও চোখের তলায় কালচে ভাব দেখা দেয়। পাশাপাশি ফোনের তাপ ত্বকে সেবামের ক্ষরণ বাড়িয়ে ত্বককে অতিরিক্ত তৈলাক্ত করে তোলে-যা ব্রণের জন্য আদর্শ পরিবেশ।
শুধু ব্রণ নয়, বাড়ছে চর্মরোগের ঝুঁকিও
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস থেকে কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস, র্যাশ এমনকি দীর্ঘমেয়াদি ত্বকের সংক্রমণও হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের ত্বক সংবেদনশীল, তাঁদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি।
সমাধান কী? দৈনন্দিন অভ্যাসে সামান্য বদলই যথেষ্ট
ফোন ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়, তবে কিছু সতর্কতা নিলে ত্বককে বাঁচানো যায়-
হ্যান্ডস-ফ্রি ব্যবহার করুন: হেডফোন বা ব্লু-টুথে কথা বলুন। তবে একটানা নয় ১৫–২০ মিনিট অন্তর বিরতি নিন।
নিয়মিত ফোন পরিষ্কার করুন: মাইক্রোফাইবার কাপড় ও স্ক্রিন ক্লিনার দিয়ে দিনে অন্তত একবার স্ক্রিন ও কভার মুছুন।
ঘাম বা শরীরচর্চার পর সতর্কতা: ঘাম ঝরার পরপরই দীর্ঘ সময় ফোন কানে লাগিয়ে কথা বলা এড়িয়ে চলুন।
মেকআপের পর ফোন দূরে রাখুন: মেকআপ করা অবস্থায় ফোনের সঙ্গে দীর্ঘ ত্বক-সংস্পর্শ ব্রণ বাড়াতে পারে।
স্মার্টফোন যেমন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তেমনই ত্বকের যত্নও জরুরি। একটু সচেতন হলেই ‘স্মার্ট’ ফোন আপনার ত্বকের শত্রু হয়ে উঠবে না।
