মাথা ব্যথা এমন একটি সমস্যা, যা জীবনের কোন না কোন সময়ে প্রায় সবাই অনুভব করেন। অনেক ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং গুরুতর নয়। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে মাথা ব্যথা শরীরের অন্য সমস্যার সংকেতও হতে পারে।
মাথা ব্যথা হলেই ভয় পাওয়ার কারণ নেই। তবে এর সম্ভাব্য কারণগুলো জানা থাকলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হয়।
১. পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া
শরীরে পানির ঘাটতি হলে মাথা ব্যথা হতে পারে।
অনেক সময় ব্যস্ততার কারণে আমরা যথেষ্ট পানি পান করি না। গরম আবহাওয়া, অতিরিক্ত ঘাম বা ডায়রিয়ার কারণেও পানিশূন্যতা হতে পারে।
মাথা ব্যথার সঙ্গে যদি মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ক্লান্তি বা মাথা ঘোরা থাকে, তাহলে পানি কম খাওয়াও একটি কারণ হতে পারে।
২. ঘুম কম হওয়া
এক-দুই রাত ঠিকমতো ঘুম না হলেও অনেকের মাথা ব্যথা শুরু হয়।
ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে বিশ্রাম দেয়। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মাথা ভার লাগা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে।
তাই প্রতিদিন নিয়মিত সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস উপকারী।
৩. অতিরিক্ত মানসিক চাপ
দুশ্চিন্তা, কাজের চাপ, পারিবারিক সমস্যা বা দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ মাথা ব্যথার অন্যতম কারণ।
এ ধরনের মাথা ব্যথায় অনেকেই মাথার দুই পাশে চাপ অনুভব করেন। কখনো কখনো মনে হয় মাথার চারপাশে কিছু শক্ত করে বাঁধা আছে।
৪. দীর্ঘ সময় মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার
ঘন্টার পর ঘন্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখ ও মাথার ওপর চাপ পড়ে।
বিশেষ করে আলো কম বা বেশি হলে, অথবা স্ক্রিনের সামনে বিরতি ছাড়া কাজ করলে মাথা ব্যথা হতে পারে।
সেজন্য প্রতি ২০-৩০ মিনিট পর কিছুক্ষণ চোখকে বিশ্রাম দেওয়া ভালো।
৫. খাবার না খাওয়া বা দেরিতে খাওয়া
অনেকেই কাজের চাপে সকালের নাস্তা বাদ দেন বা দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকেন।
এর ফলে শরীরের শক্তির মাত্রা কমে গিয়ে মাথা ব্যথা শুরু হতে পারে। মাথা ব্যথার সঙ্গে দুর্বলতা বা হাত কাঁপার মতো অনুভূতিও থাকতে পারে।
৬. অতিরিক্ত চা-কফি
ক্যাফেইন কিছু মানুষের মাথা ব্যথা কমাতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত গ্রহণ বা হঠাৎ বন্ধ করে দিলে মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে।
যারা প্রতিদিন অনেক কাপ চা বা কফি পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি দেখা যায়।
৭. সর্দি, জ্বর বা সাইনাসের সমস্যা
ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, সর্দি বা সাইনাসের সমস্যার সময় মাথা ব্যথা হতে পারে।
এ ধরনের ব্যথার সঙ্গে নাক বন্ধ থাকা, জ্বর, মুখমণ্ডলে চাপ লাগা বা চোখের চারপাশে অস্বস্তি থাকতে পারে।
৮. চোখের সমস্যা
দৃষ্টিশক্তির সমস্যা থাকলেও মাথা ব্যথা হতে পারে।
যদি পড়াশোনা, মোবাইল দেখা বা দূরের কিছু দেখার সময় মাথা ব্যথা বেশি হয়, তাহলে চোখ পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন হতে পারে।
৯. অতিরিক্ত গরম ও রোদ
প্রচণ্ড রোদ ও গরমে দীর্ঘ সময় থাকলে মাথা ব্যথা দেখা দিতে পারে।
গরমের সঙ্গে শরীরে পানির ঘাটতি যুক্ত হলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
১০. কিছু ওষুধের প্রভাব
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবেও মাথা ব্যথা হতে পারে।
এ ছাড়া বারবার ব্যথার ওষুধ খাওয়ার অভ্যাসও কখনো কখনো নতুন করে মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
মাথা ব্যথার সমস্যায় নিচের যেকোন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া উচিত-
- হঠাৎ জীবনের সবচেয়ে তীব্র মাথা ব্যথা শুরু হলে
- মাথায় আঘাতের পর ব্যথা হলে
- মাথা ব্যথার সঙ্গে খিঁচুনি হলে
- কথা বলতে সমস্যা হলে
- শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে গেলে
- জ্বরের সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে
- চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হলে
- বারবার বমি হলে
এসব লক্ষণ গুরুতর সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
মাথা ব্যথা কমাতে করণীয়
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- নিয়মিত ঘুমান।
- সময়মতো খাবার খান।
- অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার কমান।
- মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করুন।
- নিয়মিত হালকা ব্যায়াম করুন।
মাথা ব্যথার পেছনে অনেক কারণ থাকতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি ঘুম, পানি, খাবার বা মানসিক চাপের সঙ্গে সম্পর্কিত সাধারণ সমস্যা।
তবে মাথা ব্যথা যদি বারবার হয়, অস্বাভাবিকভাবে তীব্র হয় বা অন্য কোন উদ্বেগজনক লক্ষণের সঙ্গে দেখা দেয়- তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত হবে।
