পেশি বাড়ানোর ‘নেশায়’ তরুণরা, চিকিৎসকদের সতর্কতা

সুস্থ থাকতে ব্যায়াম করা ভালো। কিন্তু সেই ব্যায়ামই যদি একসময় নেশায় পরিণত হয়? যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে বারবার মনে হয়- “আমি যথেষ্ট শক্তিশালী নই”, যদিও অন্যরা বলছে আপনি বেশ ফিট?

চিকিৎসকদের মতে, এমন মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে কিশোর ও তরুণদের একটি বড় অংশ। একে বলা হয় মাসল ডিসমর্ফিয়া বা বিগোরেক্সিয়া।

একসময় শরীর নিয়ে উদ্বেগের কথা বললে বেশি আলোচনায় আসত মেয়েদের অতিরিক্ত রোগা হওয়ার প্রবণতা।

কিন্তু এখন চিকিৎসকরা বলছেন, ছেলেদের মধ্যেও শরীর নিয়ে অস্বাস্থ্যকর মানসিক চাপ দ্রুত বাড়ছে। পার্থক্য শুধু একটাই- তারা রোগা নয়, বরং আরও বেশি পেশিবহুল হতে চায়।

জিমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো, কঠোর ডায়েট, বারবার আয়নায় নিজের শরীর দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিটনেস ইনফ্লুয়েন্সারদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা- এসব আচরণ যখন দৈনন্দিন জীবন, পড়াশোনা বা সম্পর্ককে প্রভাবিত করতে শুরু করে, তখন সেটি শুধু ফিটনেস নয়; মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী প্রতি চারজন তরুণের একজন মনে করেন, তাদের শরীরে যথেষ্ট পেশি নেই। আবার প্রায় ১১ শতাংশ তরুণ পেশি বাড়ানোর জন্য ক্রিয়েটিন, স্টেরয়েড বা অন্যান্য পণ্য ব্যবহার করার কথা জানিয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব পদার্থ ব্যবহার হৃদ্‌রোগ, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, বন্ধ্যাত্ব এবং মানসিক সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

তাদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমও এই চাপ বাড়াচ্ছে। সেখানে প্রায়ই নিখুঁত পেশিবহুল শরীরকে সফলতা, আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব কিংবা পুরুষত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। ফলে অনেক কিশোর নিজের স্বাভাবিক শরীর নিয়েই অসন্তুষ্ট হয়ে পড়ে।

তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, নিয়মিত ব্যায়াম অবশ্যই স্বাস্থ্যকর। সমস্যা তখনই, যখন শরীরের চেয়ে শরীরের ‘চেহারা’ বড় হয়ে যায়।

তাদের পরামর্শ, পরিবার, বন্ধু বা শিক্ষক যদি দেখেন কোনো তরুণ অতিরিক্ত ব্যায়াম, কঠোর খাদ্যাভ্যাস বা শরীর নিয়ে অস্বাভাবিক উদ্বেগে ভুগছে, তাহলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

বিশেষজ্ঞদের বার্তা একটাই- শক্তিশালী শরীরের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ সুস্থ মন। কারণ, প্রকৃত ফিটনেস শুধু পেশিতে নয়, মানসিক সুস্থতার মধ্যেও লুকিয়ে থাকে।