অনেকেই মনে করেন দাঁতের সমস্যা শুধু বয়স বাড়লে বা মিষ্টি বেশি খেলে হয়। বাস্তবে এমন কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস আছে, যা অজান্তেই দাঁত ও মাড়ির ক্ষতি করে।
শুরুতে সমস্যা বোঝা না গেলেও বছরের পর বছর এসব অভ্যাস দাঁত ক্ষয়, মাড়ির রোগ, সংবেদনশীলতা এবং দাঁত ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
১. খুব জোরে দাঁত ব্রাশ করা
অনেকে ভাবেন জোরে ব্রাশ করলে দাঁত বেশি পরিষ্কার হয়। কিন্তু এটি ভুল ধারণা।
অতিরিক্ত চাপ দিয়ে ব্রাশ করলে দাঁতের বাইরের সুরক্ষামূলক স্তর ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে পারে। একই সঙ্গে মাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই নরম ব্রিসলযুক্ত ব্রাশ ব্যবহার করুন এবং হালকা হাতে ব্রাশ করুন।
২. ঘন ঘন মিষ্টি ও চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়া
চকলেট, ক্যান্ডি, সফট ড্রিংকস, মিষ্টি চা বা কফি- এসব খাবারের চিনি মুখের ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবার হিসেবে কাজ করে।
এর ফলে মুখে অ্যাসিড তৈরি হয়, যা দাঁতের ক্ষয় বাড়ায়। বিশেষ করে সারাদিন অল্প অল্প করে মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস দাঁতের জন্য বেশি ক্ষতিকর।
৩. দাঁত দিয়ে বোতলের ঢাকনা বা প্যাকেট খোলা
অনেকে সুবিধার জন্য দাঁতকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন।
বোতলের ঢাকনা খোলা, সুতা কাটা বা প্যাকেট ছেঁড়া দাঁতের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। এতে দাঁত ফেটে যেতে পারে বা ছোট অংশ ভেঙে যেতে পারে।
৪. বরফ চিবিয়ে খাওয়া
কিছু মানুষের বরফ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস আছে।
বরফ শক্ত হওয়ায় এটি দাঁতের ওপর আঘাতের মতো কাজ করে। দীর্ঘদিন এমন করলে দাঁতে ফাটল বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ক্ষত তৈরি হতে পারে।
৫. দাঁত ঘষা বা চেপে ধরা
অনেকে ঘুমের মধ্যে বা মানসিক চাপের সময় অজান্তেই দাঁতে দাঁত ঘষেন বা শক্ত করে চেপে ধরেন।
এই অভ্যাসের কারণে দাঁত ক্ষয় হতে পারে, দাঁতে ব্যথা হতে পারে এবং চোয়ালের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৬. ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য ব্যবহার
ধূমপান শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে না, মুখেরও ক্ষতি করে।
এতে দাঁতে দাগ পড়ে, মুখে দুর্গন্ধ হয় এবং মাড়ির রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন তামাক ব্যবহার মুখগহ্বরের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।
৭. খাবারের পর মুখ না ধোয়া
খাওয়ার পর দাঁতের ফাঁকে খাবারের কণা আটকে থাকতে পারে।
এসব কণা দীর্ঘ সময় দাঁতের সঙ্গে লেগে থাকলে ব্যাকটেরিয়া বাড়ে এবং দাঁত ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাবারের পর অন্তত পানি দিয়ে মুখ কুলি করা ভালো অভ্যাস।
৮. নিয়মিত ফ্লস না করা
ব্রাশ দাঁতের সব জায়গায় পৌঁছাতে পারে না।
দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা খাবার ও প্লাক পরিষ্কার করতে ফ্লস বা উপযুক্ত ইন্টারডেন্টাল ক্লিনার ব্যবহার করা উপকারী হতে পারে। শুধু ব্রাশ করলেই সবসময় যথেষ্ট হয় না।
৯. খুব ঘন ঘন টক বা অ্যাসিডযুক্ত খাবার খাওয়া
লেবু, আচার, সফট ড্রিংকস ও কিছু এনার্জি ড্রিংকে থাকা অ্যাসিড দাঁতের বাইরের স্তরকে দুর্বল করতে পারে।
এসব খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ব্রাশ না করে কিছু সময় অপেক্ষা করা ভালো। কারণ তখন দাঁতের উপরিভাগ সাময়িকভাবে নরম অবস্থায় থাকতে পারে।
১০. দাঁতের সমস্যা অবহেলা করা
হালকা ব্যথা, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা দাঁতে গর্ত হওয়া- এসব লক্ষণ অনেকেই গুরুত্ব দেন না।
কিন্তু ছোট সমস্যা সময়মতো চিকিৎসা না করলে বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে, যার চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক বেশি হতে পারে।
দাঁত ভালো রাখতে করণীয়
- দিনে অন্তত দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন।
- ফ্লোরাইডযুক্ত টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।
- অতিরিক্ত মিষ্টি ও কোমল পানীয় কম খান।
- ধূমপান এড়িয়ে চলুন।
- নিয়মিত দাঁতের চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- দাঁতকে কখনো যন্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
মনে রাখবেন, দাঁতের ক্ষতি একদিনে হয় না। ছোট ছোট ভুল অভ্যাস বছরের পর বছর ধরে দাঁতের স্বাস্থ্য নষ্ট করে। তাই দাঁতের যত্ন মানে শুধু ব্রাশ করা নয়; বরং প্রতিদিনের অভ্যাসগুলোর দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
আজই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো বদলাতে পারলে ভবিষ্যতে অনেক বড় সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
