আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং আগামী শুক্রবারের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হবে।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের পর তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং দুটি কার্গো জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে স্বস্তি ফিরে আসার আশা দেখা দিয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু ঘোষণা দিয়েছেন, ইসরাইলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননে তাদের অবস্থান বজায় রাখবে।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
অন্যদিকে, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়া বহু লেবানিজ নাগরিক দক্ষিণ লেবাননে ফিরে যেতে শুরু করেছেন।
তবে ওই অঞ্চলে এখনো ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে, যা পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
এরই মধ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একাধিক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ইরান চুক্তির পক্ষে জোরালো অবস্থান তুলে ধরেছেন।
এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চুক্তিটি ডিজিটালভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, যদিও এর গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সিবিএস নিউজকে ভ্যান্স দাবি করেন, চুক্তির আওতায় ইরানকে ‘বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সম্পদ’ দেওয়া হচ্ছে না। সিএনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চুক্তির অনেক বিষয় এখনো চূড়ান্ত করতে হবে, তবে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান শক্তিশালী।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর নতুন সুযোগ তৈরি করলেও লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তে চলমান সংঘাত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
