সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি করে যে ৪ বিষয়

সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতা বলতে শুধু যৌন সম্পর্ককে বোঝায় না। বরং সঙ্গীর সঙ্গে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা, একে অপরকে বোঝা এবং মানসিকভাবে কাছে থাকাও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের কিছু ছোটখাটো বিষয় ধীরে ধীরে সেই ঘনিষ্ঠতায় দূরত্ব তৈরি করতে পারে।

যৌন ও সম্পর্কবিষয়ক থেরাপিস্ট চামিন আজান ২০ বছরের বেশি সময়ের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এমন চারটি বিষয় চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো অনেক সময় চোখের আড়ালেই সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা কমিয়ে দেয়।

১. অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার

সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলার সময় বারবার ফোন দেখা বা নোটিফিকেশনের দিকে মনোযোগ দেওয়া তাকে এই বার্তা দিতে পারে যে, আপনি পুরোপুরি তার সঙ্গে নেই।

আজানের পরামর্শ, দুজন মিলে কিছু ‘স্ক্রিন-ফ্রি’ সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। যেমন- খাওয়ার সময়, ঘুমানোর আগে কিংবা শোবার ঘরে ফোন ব্যবহার না করা।

২. সাবেক সঙ্গীকে ঘিরে থাকা

নতুন সম্পর্কে থেকেও যদি কেউ বারবার সাবেক সঙ্গীর সঙ্গে নিজের বর্তমান সঙ্গীর তুলনা করেন, অথবা আগের সম্পর্কের আবেগ থেকে পুরোপুরি বের হতে না পারেন, তাহলে নতুন সম্পর্কের প্রতি মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ক্ষেত্রে নিজের অনুভূতিগুলো নিয়ে সৎভাবে ভাবতে হবে। আগের সম্পর্কের অভিজ্ঞতা নিয়ে শোক বা আক্ষেপ থাকলে তা স্বীকার করা এবং ধীরে ধীরে বর্তমানের দিকে মনোযোগ ফেরানোর পরামর্শ দিয়েছেন আজান।

৩. নেতিবাচক চিন্তার প্রবণতা

‘সে হয়তো আমাকে পছন্দ করে না’, ‘আমি হয়তো বেশি কিছু চাইছি’- এ ধরনের নেতিবাচক ধারণা অনেক সময় বাস্তবতার চেয়ে ভয় বা অনিশ্চয়তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়।

এ ধরনের চিন্তা এলে নিজেকে প্রশ্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে- এটি কি সত্যিই কোনো তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি, নাকি শুধু ভয় থেকে আসছে? নিজের ধারণার পক্ষে ও বিপক্ষে কী প্রমাণ আছে, সেটিও ভাবা যেতে পারে।

অর্থাৎ, কোনো নেতিবাচক চিন্তা মনে হলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার পরিবর্তে বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

৪. অতিরিক্ত চাপ ও মানসিক চাপ

কাজের চাপ, অর্থনৈতিক সমস্যা, পরিবারের অসুস্থতা কিংবা অন্য কোনো উদ্বেগ সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে এর প্রভাব এক রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে চাপের সময়ও ঘনিষ্ঠ হওয়ার আগ্রহ থাকতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে চাপ যৌন ও মানসিক ঘনিষ্ঠতার আগ্রহ একেবারেই কমিয়ে দিতে পারে।

আজানের পরামর্শ, নিজের ক্ষেত্রে চাপ কীভাবে ঘনিষ্ঠতার ওপর প্রভাব ফেলে তা আগে বোঝা দরকার। এরপর সঙ্গীর সঙ্গে বিষয়টি খোলাখুলি আলোচনা করা যেতে পারে।

এ সময় যৌন সম্পর্কই ঘনিষ্ঠতার একমাত্র উপায় নয়। একসঙ্গে হাঁটা, পাশে বসে কথা বলা, আলিঙ্গন করা কিংবা সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনার মতো ছোট ছোট বিষয়ও সম্পর্কের কাছাকাছি আসতে সাহায্য করতে পারে।

চামিন আজানের মতে, ঘনিষ্ঠতা শুধু যৌনতার বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানসিক নিরাপত্তা, সততা, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও উপস্থিত থাকার বিষয়গুলোও জড়িত। তাই সম্পর্কের দূরত্ব তৈরি হলে শুধু যৌন জীবনের দিকে না তাকিয়ে দৈনন্দিন যোগাযোগ ও আবেগের দিকটিও বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।