সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কতা জারির কয়েক ঘণ্টা পর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে আকাশে দেখা গেছে ঘন কালো ধোঁয়া। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
এতে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কবার্তার পর বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সংঘাত বাড়ার পর রিয়াদে এ ধরনের সতর্কতা দেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট FlightRadar24-এর তথ্য অনুযায়ী, কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেশ কয়েকটি ফ্লাইটে দীর্ঘ বিলম্ব হয়েছে এবং কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে বিমানবন্দরের কাছে একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির এক সাংবাদিক ঘটনাস্থলে দমকলকর্মীদের একটি পুড়ে যাওয়া জ্বালানি ট্যাংকের আগুন নেভাতে দেখেছেন। ট্যাংকটি সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানি আরামকোর বলে জানা গেছে।
তবে আগুনের কারণ বা বিমানবন্দরের কাছে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো সৌদি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি সিভিল ডিফেন্স রাতে রিয়াদসহ কয়েকটি এলাকায় মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠায়। শনিবার সকালে বাসিন্দাদের ‘অল ক্লিয়ার’ বা বিপদ কেটে যাওয়ার বার্তা দেওয়া হয়।
এএফপিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সতর্কবার্তার পর রাজধানীতে পরপর কয়েকটি বিস্ফোরণের মতো শব্দ শুনেছেন তারা। একজন বাসিন্দা বলেন, বিমানবন্দরের দিক থেকে কালো ধোঁয়া ও আগুন দেখা গেছে।
সৌদি আরবে হামলায় হুথিরা?
শুক্রবার হুথি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইয়াহিয়া আল-সারি দাবি করেন, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলা প্রতিহত করেছে তাদের বাহিনী।
তার দাবি, গত এক সপ্তাহে সৌদি আরব ইয়েমেনে ৩০০টি হামলা চালিয়েছে। এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধে রয়েছে হুথিরা। সম্প্রতি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মোখা বন্দর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালির কাছে পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
হুথিদের দাবি, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনে তাদের নিয়ন্ত্রিত বন্দর ও বিমানবন্দরে সৌদি অবরোধের জবাব হিসেবেই তারা নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এ অঞ্চলের তেল পরিবহনে লোহিত সাগরের নৌপথের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ফলে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সংঘাত নতুন করে আঞ্চলিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যপথের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
