যুদ্ধবিমান চালানো বিশ্বের অন্যতম কঠিন ও প্রশিক্ষণনির্ভর পেশা। দীর্ঘ সময়ের প্রশিক্ষণ, কঠোর শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্বের কারণে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে ফাইটার জেট পাইলটদের জন্য মূল বেতনের পাশাপাশি নানা ধরনের ভাতা ও আর্থিক সুবিধা থাকে।
দেশ ও অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যুদ্ধবিমান চালকদের বেতন ভিন্ন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে অভিজ্ঞ ফাইটার পাইলটদের বার্ষিক মোট আয় প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে পাইলটদের বেতন কত?
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে একজন নতুন ফাইটার পাইলটের বেস বেতন প্রায় ৪৩ হাজার ৫০০ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। তবে অভিজ্ঞতা, পদমর্যাদা, ফ্লাইট ডিউটি এবং বিভিন্ন ভাতা যোগ হলে মোট আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।
অভিজ্ঞ মার্কিন ফাইটার পাইলটদের বার্ষিক আয় সাধারণত ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার।
এর সঙ্গে ফ্লাইট পে বা Aviation Career Incentive Pay হিসেবে মাসে প্রায় ১৫০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে। দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী কমব্যাট, ডেপ্লয়মেন্ট ও হ্যাজার্ড পে-ও যুক্ত হতে পারে।
যুক্তরাজ্য
যুক্তরাজ্যে ফাইটার পাইলটদের বার্ষিক বেতন প্রায় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে। মার্কিন ডলারে এটি আনুমানিক ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
তবে এখানেও অভিজ্ঞতা, পদমর্যাদা ও অতিরিক্ত দায়িত্বের ওপর প্রকৃত আয় নির্ভর করে।
কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায়
কানাডায় যুদ্ধবিমান চালকদের বার্ষিক বেতন প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কানাডিয়ান ডলার। মার্কিন ডলারে এর পরিমাণ আনুমানিক ৫৮ হাজার থেকে ৮৮ হাজার ডলার।
অস্ট্রেলিয়ায় এই আয় প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার, যা মার্কিন ডলারে আনুমানিক ৬৬ হাজার ৯০০ থেকে ১ লাখ ডলার।
শুধু মূল বেতন নয়
ফাইটার পাইলটদের মোট আর্থিক সুবিধা শুধু বেতনের ওপর নির্ভর করে না। বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীতে দায়িত্ব ও কর্মস্থল অনুযায়ী বাড়তি সুবিধা থাকতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে-
- ফ্লাইট পে
- কমব্যাট পে
- ডেপ্লয়মেন্ট পে
- ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের জন্য অতিরিক্ত ভাতা
- প্রশিক্ষক বা বিশেষ দায়িত্বের জন্য অতিরিক্ত অর্থ
- আবাসন ও নির্ভরশীলদের জন্য ভাতা
- চিকিৎসাসেবা
- অবসরকালীন সুবিধা
ফলে একই পদমর্যাদার দুই পাইলটের মোট আয় দায়িত্ব ও কর্মস্থলভেদে আলাদা হতে পারে।
ফাইটার পাইলট হতে কত সময় লাগে?
যুদ্ধবিমান চালক হওয়ার পথ দীর্ঘ। Aviation A2Z-এর প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, প্রার্থীদের প্রথমে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে সামরিক বাহিনীতে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিতে হয়। এরপর নির্বাচন পরীক্ষা, পাইলট প্রশিক্ষণ, জেট প্রশিক্ষণ এবং নির্দিষ্ট যুদ্ধবিমানভিত্তিক উন্নত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হয়।
প্রশিক্ষণের পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে একজন পাইলটকে যুদ্ধ মিশনের জন্য প্রস্তুত হতে তিন বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে।
সামরিক পাইলট বনাম বাণিজ্যিক পাইলট
প্রতিবেদনটিতে সামরিক ফাইটার পাইলটদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক এয়ারলাইনের পাইলটদের আয়েরও তুলনা করা হয়েছে।
সেখানে দেখানো তথ্য অনুযায়ী, বড় মার্কিন এয়ারলাইনগুলোর অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেনদের বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারেরও বেশি হতে পারে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে সামরিক ফাইটার পাইলট ও বাণিজ্যিক এয়ারলাইন পাইলটদের আয়ের কাঠামোর মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হতে পারে।
তবে সামরিক পাইলটদের প্যাকেজে বেতন ছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা, আবাসনসহ বিভিন্ন সুবিধা এবং অবসরকালীন সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
