গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় নিহত ৮ ফিলিস্তিনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
গাজায় নতুন করে ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত আট ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত অক্টোবরে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মধ্যেই এ হামলার ঘটনা ঘটল। একই দিনে দক্ষিণ লেবাননেও হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

রোববার গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস শহরে ইসরাইলি হামলায় অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হন।

এ ছাড়া উত্তর গাজার আল-ফালুজা এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের একটি তাবুতে হামলা চালালে আরও চারজন নিহত হন বলে আল-শিফা হাসপাতালের একটি সূত্র জানিয়েছে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরাইল।

তবে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, উত্তর গাজার একটি ভবনে কয়েকজন সশস্ত্র যোদ্ধা প্রবেশের পর সেখানে হামলা চালানো হয় এবং অন্তত দুজন নিহত হন।

এছাড়া ‘ইয়েলো লাইন’ অতিক্রম করে তাদের জন্য ‘তাৎক্ষণিক হুমকি’ সৃষ্টি করেছে। এমন অভিযোগে আরও একজনকে হত্যার দাবি করেছে তারা। তবে এসব দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

রোববার দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত অস্ত্র ও লঞ্চার সংরক্ষণের গুদাম লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী।

হিজবুল্লাহ ২০২৩ সালে গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে উত্তর ইসরাইলে হামলা শুরু করার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

লেবাননের পক্ষ থেকে এ হামলার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজা ও লেবাননের কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

গাজায় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি ইসরাইল অন্তত ১,৫০০ বারের বেশি লঙ্ঘন করেছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৯১ জন নিহত ও ১,৫৯০ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ৭২ হাজার ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৬১ জন আহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, গাজা পুনর্গঠনে ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় হতে পারে।

লেবাননের ক্ষেত্রেও যুদ্ধবিরতির পর গত এক বছরে ১০ হাজারের বেশি বিমান ও স্থল হামলা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।