বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জন নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডে চলছে নানা নাটকীয়তা। দেশটির ক্রিকেট বোর্ড বিশ্বকাপে না খেলার কথাও চিন্তা করেছে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সাথেও আলোচনা হয়েছে বোর্ড প্রধান মহসিন নাকভির। তার আগে বিশ্বকাপ খেললেও কী কী পদক্ষেপ নিতে পারে সে সংক্রান্ত ধারণাও দিয়েছে পাকিস্তান। বিপরীতে ভারতের সাবেকরাও নানা খোঁচা দিতে শুরু করেছে পাকিস্তানকে। বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জন নিয়ে সারাদিন কি কি হলো তার পুরো চিত্রটা একবার দেখে আসবো।
দিনের শুরুতে দ্য নিউজ তাদের প্রতিবেদনে বলেছিল, বাংলাদেশের প্রতি আইসিসির অন্যায্য এবং বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে বলে মনে করছে পাকিস্তান সরকার। সংহতি জানাতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে তারা।
পরে তিনটি বিকল্পের কথা ভাবছে পিসিবি বলে জানিয়েছিল সামা টিভি। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী বিকল্পগুলো হল- প্রথমত, টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোতে পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামতে পারেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের প্রতি সংহতির বার্তা পৌঁছানো হবে। দ্বিতীয় বিকল্প, আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করতে পারে। সূত্র মতে, প্রতিবাদ হিসেবেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারে পিসিবি। তৃতীয় বিকল্প-পাকিস্তান দল বিশ্বকাপে পাওয়া প্রতিটি জয় বাংলাদেশের ক্রিকেট সমর্থকদের উদ্দেশে উৎসর্গ করতে পারে।
ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক বিশ্বকাপ নিয়ে মন্তব্যে বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম একটি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ ক্রিকেট বোর্ড তৈরি হয়েছে। একজন সাবেক অনভিজ্ঞ ক্রীড়া উপদেষ্টার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আজ ক্রিকেট বোর্ড কলঙ্কিত। তাদের ভুল নীতি আর ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে দেশের ক্রিকেটের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।’
সোমবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সাথে আলোচনায় বসেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে নাকভি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মো. শাহবাজ শরীফের সাথে ভালো একটি বৈঠক হয়েছে আমার। আইসিসির বিষয়টি তাকে সংক্ষেপে বলেছি এবং তিনি বলেছেন সবকিছু আলোচনার টেবিলে রেখে সমাধান করা হবে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে শুক্রবার অথবা পরের সপ্তাহের সোমবার।’
ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা বাংলাদেশের বিশ্বকাপ বর্জন নিয়ে রাজীব শুক্লা বলেন, ‘পাকিস্তান অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাংলাদেশের ব্যাপারে আটকে আছে। বাংলাদেশকে উস্কে দেয়ার পেছনে পাকিস্তান বড় ভূমিকা পালন করছে। তাদের এটা করা উচিত নয়। পুরো বিশ্ব জানে পাকিস্তান বাংলাদেশের সাথে কী করেছে, বাংলাদেশিরাও। এখন পাকিস্তান সহানুভূতিশীল হওয়ার চেষ্টা করে বাংলাদেশকে ভুল পথে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’
পাকিস্তানকে খোঁচা দিয়ে ভারতের সাবেক নির্বাচক কে শ্রীকান্ত বলেন, ‘গত ম্যাচে ভারত ১৫ ওভারে ২০৯ রান করেছিল। এই ম্যাচে তারা ১০ ওভারে ১৫০ রান করেছিল। এটা দেখে অনেক দল হয়তো বলবে, ‘না, আমরা আসছি না। তুমি কাপ রেখে দিতে পারো। পাকিস্তান, এসো না। তোমাদের মহসিন নাকভি এটা নিয়ে কথা বলছিল, এসো না। তোমাদেরকে ধোলাই করা হবে।’
