ভেনিজুয়েলায় হামলা চালানোর পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী ধরে নিয়ে গেছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট দীর্ঘদিন ধরেই মাদুরো সরকারের ওপর চাপ তৈরি করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার আমেরিকা হামলা চালালো কারাকাসে।
নিকোলাস মাদুরো যেভাবে ভেনিজুয়েলার নেতৃত্বে
নিকোলাস মাদুরো ২০১৩ সাল থেকে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে আছেন। হুগো শ্যাভেজের মৃত্যুর পর তিনি দেশটির ক্ষমতা নেন।
হুগো শ্যাভেজের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত মাদুরো রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে বাসচালক ও শ্রমিক ইউনিয়ন সংগঠক হিসেবে কাজ করতেন।
পরে তিনি ভেনিজুয়েলার বামপন্থি রাজনৈতিক আন্দোলনে ধীরে ধীরে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠে আসেন।
শ্যাভেজ সরকারের সময় মাদুরো প্রথমে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পরে উপ-রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
মাদুরোকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি যেখানে
প্রেসিডেন্ট হিসেবে মাদুরো নিজেকে ভেনিজুয়েলার সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক প্রকল্পের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের একজন কড়া সমালোচক।
তার অভিযোগ, ওয়াশিংটন তার সরকারকে অস্থিতিশীল করতে অভ্যুত্থানের চেষ্টা, অর্থনৈতিক নাশকতা এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
এসব অভিযোগের কারণ হল- যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার মুখে ছিল মাদুরো সরকার।
এর অন্যতম কারণ হল- বিশ্বে যেসব দেশে দীর্ঘদিন ধরে বামপন্থি শাসন চলছে, তার একটি ভেনিজুয়েলা।
সেজন্য গণতন্ত্রের নামে দেশটিতে সরকার পরিবর্তনে চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে।
পশ্চিমা দেশগুলো এবং ভেনিজুয়েলার বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলো মাদুরোর বিরুদ্ধে স্বৈরাচারী শাসন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে আসছে।
তবে এসব অভিযোগ তিনি বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন। মাদুরোর অভিযোগ, ভেনিজুয়েলার সম্পদের প্রতি লোভ থেকেই পশ্চিমারা তার সরকারকে উৎখাত করতে চাচ্ছে।
সবশেষ ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মাদুরোর জয়কে যুক্তরাষ্ট্রসহ অধিকাংশ দেশ স্বীকৃতি দেয়নি।
