আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আরব সাগরে মার্কিন একটি বিমানবাহী রণতরীর দিকে এগিয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের আত্মরক্ষা ও রণতরীতে থাকা সেনা ও সরঞ্জামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে সেন্টকমের মুখপাত্র টিম হকিন্স বলেন, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে উড্ডয়ন করা একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ‘আত্মরক্ষার্থে’ ড্রোনটি গুলি করে ভূপাতিত করে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, ভূপাতিত ড্রোনটি ছিল ইরানের শাহেদ-১৩৯ মডেলের এবং এটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থানরত মার্কিন রণতরীর দিকে ‘আক্রমণাত্মকভাবে’ এগিয়ে আসছিল।
সেন্টকম দাবি করেছে, ড্রোনটির উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হলেও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে উত্তেজনা কমানোর বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার পরও সেটি রণতরীর দিকে অগ্রসর হতে থাকে। তবে এ ঘটনার বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তেহরানের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন বাড়লেও সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতায় আলোচনার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিলো। তবে এঘটনার পর পরিস্থিতি কোন দিকে যায় সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে যেখানে হুমকি ও অযৌক্তিক দাবি থাকবে না। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনার উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, এসব আলোচনা ইরানের জাতীয় স্বার্থের কাঠামোর মধ্যেই পরিচালিত হবে।
শুক্রবার সম্ভাব্য এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা আলোচনার ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ চলতি সপ্তাহেই ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারেন।
এদিকে একই দিনে সেন্টকম অভিযোগ করেছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে হয়রানি করেছে।
অভিযোগে বলা হয়, দুটি আইআরজিসি নৌযান ও একটি ইরানি মোহাজের ড্রোন উচ্চগতিতে জাহাজটির কাছে গিয়ে সেটি দখলের হুমকি দেয়।
তবে ইরানের আধা-সরকারি ফারস বার্তা সংস্থা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, ওই জাহাজটি প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। সতর্ক করার পর জাহাজটি এলাকা ত্যাগ করে এবং কোনো বিশেষ নিরাপত্তা ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করা হয়।
