মার্কিন হামলায় নিহত অন্তত ৪০, ভেনেজুয়েলায় জরুরি অবস্থা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার সরকারি সূত্র। হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যদিও আহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়।

গত শুক্রবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় বিমান ও বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে এই অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

ভেনেজুয়েলার সরকারি ও রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হামলায়
রাজধানী কারাকাসের লা কারলোতা বিমানঘাঁটি,
কয়েকটি সামরিক ঘাঁটি, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ অবকাঠামোর অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সরকার এটিকে “বেসামরিক স্থাপনায় হামলা” বলে উল্লেখ করেছে।

হামলার পর ভেনেজুয়েলায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অস্থায়ীভাবে সরকারের দৈনন্দিন কার্যক্রম তদারকি করছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভ্লাদিমির পাদ্রিনো লোপেজ জনগণকে “প্রতিরোধ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার” আহ্বান জানিয়েছেন।

সরকারি পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী মাদুরো আটক হয়েছেন। এ বিষয়ে তারা এখনো “আন্তর্জাতিক প্রমাণ” দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় “নারকোটেররিজম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে” এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, “ভেনেজুয়েলায় একটি নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র দেশটির শাসনব্যবস্থা তদারক করবে।”

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হয়নি, তবে দুইজন মার্কিন সেনা গুরুতর আহত হয়েছেন।

ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সংবাদমাধ্যমগুলো এই হামলাকে “মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের নগ্ন আগ্রাসন” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

সরকারের দাবি, এটি দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।

ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে “অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসন” বলে নিন্দা জানিয়েছে। ব্রাজিল, মেক্সিকো ও কলম্বিয়াসহ একাধিক লাতিন আমেরিকান দেশ কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন পরিস্থিতি শান্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছে।

তবে কিছু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করলেও প্রকাশ্যে সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় এই অভিযান দেশটিকে আরও গভীর রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের দিকে ঠেলে দিতে পারে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও লাতিন আমেরিকার সম্পর্কেও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।