বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) লিটন দাসকে টি-টুয়েন্টির নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে ২০২৫ সালের ৪ মে। নতুন দায়িত্ব নিয়েই তিনি পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সিরিজে খেলতে যান। তবে দুই সিরিজে ব্যর্থ হন লিটন, উঠে সমালোচনার ঝড়।
দায়িত্ব নেয়ার পর এই সমালোচনার ঝড় কতটুকু সামলেছেন তিনি? তার নেতৃত্বে কেমন করছে বাংলাদেশের তারুণ্য নির্ভর টি-টুয়েন্টি দল?
চলুন দেখে আসা যাক নতুন অধিনায়ক লিটন দাসের সাফল্যের গ্রাফটা।
অধিনায়ক হিসেবে লিটন দাসের সাফল্যের শুরু ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর থেকে। ২০২৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে হওয়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন তখনকার তিন সংস্করণের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন সংস্করণের সিরিজে চোট থাকায় দলে ছিলেন না শান্ত।
সেখানে ৩ ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন লিটন দাস, স্বাগতিকদের করেছিলেন হোয়াইটওয়াশ।
মে মাসে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সিরিজ ছিল সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। প্রথম সিরিজেই পুঁচকে আরব আমিরাতের কাছে লজ্জা পায় লিটন দাসের দল। দুই ম্যাচের সিরিজ বেড়ে তিন ম্যাচের হলেও বাংলাদেশ সিরিজ হারে ২-১ ব্যবধানে।
লিটন দাসের ব্যাটিং নিয়ে উঠেছিল সমালোচনার ঝড়। সেটি আরও বাড়ে পাকিস্তানে হওয়া তিন ম্যাচের সিরিজে। পাকিস্তানে কাছেও হোয়াইটওয়াশের লজ্জা পেয়েছিল বাংলাদেশ দলটি, হেরেছির ৩-০ ব্যবধানে।
পরের গল্পটা বেশ সুখকর বাংলাদেশের জন্য। শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথমবার কোনো সংস্করণে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ, এটি হয়েছিল লিটন দাসের নেতৃত্বে। তিন ম্যাচের সিরিজে প্রথম ম্যাচ হারলেও পরের দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে ২-১ এ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ভারপ্রাপ্তের পর পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে সেটি ছিল লিটন দাসের প্রথম সিরিজ জয়।
এরপর পাকিস্তান খেলতে আসে বাংলাদেশে। জুলাই মাসে হওয়া ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচ বাংলাদেশ জেতে ৮ উইকেটে। তবে শেষ ম্যাচে লিটন দাসরা হেরেছিল ৭৪ রানে। হোয়াইটওয়াশ করা না হলেও সিরিজ ঘরে রাখে তরুণ এ দলটি।
পরের গল্পটি সবার জানা, এশিয়া কাপের আগে ভারত না আসায় তিন ম্যাচের সিরিজ খেলতে আসে নেদারল্যান্ডস, প্রথম দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে টানা তিন সিরিজ জিতল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। লিটনের অধীনে খেলা ছয়টি সিরিজের মধ্যে চারটিতে শিরোপা উঠেছে বাংলাদেশের হাতে। এ আত্মবিশ্বাস এশিয়া কাপে অবশ্যই কাজে দেবে বাংলাদেশের।
এখন দেখা যাক এ দলের তরুণ ওই খেলোয়াড়েরা কারা। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ প্রথমবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয় করে। বিশ্বকাপজয়ী ওই দলের দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও পারভেজ হোসেন ইমন। মিডল অর্ডারে আছেন তাওহিদ হৃদয়। লোয়ার মিডল অর্ডারে আছেন শামিম হোসেন পাটোয়ারি এবং দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও শরিফুল ইসলাম।
এশিয়া কাপের আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজ নিজেদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সিরিজ। ইতিমধ্যে এ সিরিজের শিরোপা ঘরে তুলেছে বাংলাদেশের নতুন অধিনায়ক লিটন দাসের দল। প্রথম দুই ম্যাচে ৮ ও ৯ উইকেটের বড় জয় তুলেছে বাংলাদেশ।
ফর্মে ফিরেছেন লিটন দাস, দুই ম্যাচেই ছিলেন অপরাজিত। রান পেয়েছেন তানজিদ তামিম ও সাইফ হাসানও। বোলাররাও নিজেদের ঝালিয়ে নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
বাংলাদেশ তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে টসে জিতলে কী আগে ব্যাটিং নিয়ে নিজেদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে?
ডাচদের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশের চারজন ব্যাট করার সুযোগ পেয়েছেন। দুই ওপেনার তানজিদ তামিম ও পারভেজ ইমন বাদে লিটন ও সাইফ হাসান কিছুটা ব্যাট করেছেন। বাকিদের কেউ ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি। জাকের আলী, তাওহিদ হৃদয়, শেখ মেহেদী, নিজেদের ঝালিয়ে নিতে পারেননি।
ফলে পাওয়ার হিটিং কোচ জুলিয়ান উডের সাথে ব্যাটাররা কেমন কাজ করল বা প্রভাব কেমন হতে পারে সেটা দেখা হল না। শেষ ম্যাচে অন্যরা ব্যাটিং করতে পারলে সেটা যাচাই করা সম্ভব হত। তখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কোন বিষয়গুলোতে আরও কাজ করা দরকার তা বোঝা যেত।
তবে বোলাররা নিজেদের দেখে নিতে পেরেছেন। ভালো বোলিং করে নিজের পারফরম্যান্স ধরে রেখেছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান, শরিফুল ইসলাম, তানজিম হাসান সাকিব, সাইফ হাসান ও নাসুম আহমেদরা। শেষ ম্যাচে বাকিদের খেলালে এবং বোলাররা নিজেদের সম্পর্কে জানতে পারলে সেটা এশিয়া কাপে ভালো কাজে দিতো বাংলাদেশের জন্য।
