জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার রায় পড়া চলছে। ৬ ভাগের ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সারসংক্ষেপ পর্যায়ক্রমে পড়ছেন ট্রাইব্যুনাল ১ এর তিন বিচারক।
গুরুত্বপূর্ণ এই রায়কে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা–ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সকাল থেকেই ঢাকার প্রধান সড়কগুলোতে দেখা যাচ্ছে অস্বাভাবিক নীরবতা এবং বাড়তি টহল।
১৫ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন
ঢাকা মহানগর পুলিশ–সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। শান্তিনগর, মগবাজার, ধানমন্ডি, রামপুরা, তেজগাঁওসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে তল্লাশিচৌকি বসানো হয়েছে।
পুলিশ সদস্যরা সড়কে চলাচলকারী গাড়ি, মোটরসাইকেল, এমনকি পথচারীদেরও থামিয়ে তল্লাশি করছেন। যাত্রীদের ব্যাগপত্র খুলে দেখাতে হচ্ছে, আর মোটরসাইকেলে থাকা দুজন আরোহীর প্রতি নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সড়কে কম পরিবহন, কম মানুষের চলাচল
শহরজুড়ে পরিবহনের সংখ্যা স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম। সকাল অফিসের ব্যস্ততা থাকলেও অনেক রুটে গণপরিবহন ছিল অপ্রতুল। যাত্রীরা তাই রিকশা ও সিএনজির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছেন। রাস্তায় মানুষের আনাগোনাও ছিল তুলনামূলক কম।
ডিএমপির দাবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে
ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন,
“রায়কে ঘিরে শহরজুড়ে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। সকাল পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।”
আগের দিনই ১৮টি ককটেল বিস্ফোরণ
রবিবার রাতেই রাজধানীর একাধিক এলাকায় ১৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি দুটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। তেজগাঁও রেলস্টেশন এলাকায় একটি ট্রেনে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসব ঘটনার পরই আজকের রায়কে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা আরও কঠোর করা হয়েছে।
রাজধানীতে সতর্কতা বাড়লেও পরিস্থিতি শান্ত
কর্তৃপক্ষ বলছে, রায় ঘোষণার দিন রাজধানীতে যেকোনো ধরনের উত্তেজনা–সৃষ্টিকারী ঘটনা প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। তবে সকাল থেকেই ঢাকার সামগ্রিক পরিবেশ শান্ত। যদিও সেই শান্ত পরিবেশের ভেতরেই রয়েছে অস্বস্তিকর অপেক্ষা, অনিশ্চয়তা এবং নিরাপত্তার কড়াকড়ি।
