নেইমারকে ঘিরে বিতর্ক: ছন্দে ফিরতে পারবেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার?

মায়ামিতে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বকাপ ম্যাচকে সামনে রেখে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার।

দীর্ঘদিনের ইনজুরি সমস্যার কারণে টুর্নামেন্টের প্রথম দুই ম্যাচে খেলতে না পারলেও এখন তিনি প্রায় সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে জানা গেছে। ফলে পরের ম্যাচেই তাকে বেঞ্চে দেখা যেতে পারে।

সম্প্রতি ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা নেইমারকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম খেলোয়াড়’ বলে কটাক্ষ করেন। তার এই মন্তব্য ব্রাজিলজুড়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

জাতীয় দলের কোচ কার্লো আনচেলত্তির ‘অর্ধ-ফিট’ নেইমারকে বিশ্বকাপ দলে নেওয়ার সিদ্ধান্তও দীর্ঘদিন ধরে সমালোচিত হচ্ছে।

তবে দলের ভেতরে নেইমারের গুরুত্ব নিয়ে কোন দ্বিমত নেই। ব্রাজিলের মিডফিল্ডার লুকাস পাকেতা মনে করেন, নেইমার এখনো জাতীয় দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।

“এই জার্সিতে তার অসাধারণ ইতিহাস রয়েছে। তিনি এখনও দলকে অনেক সাহায্য করতে পারেন।”

তবে সমালোচকরাও যুক্তি দেখাচ্ছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার পর থেকে নেইমার মাত্র ৪৫টি পেশাদার ম্যাচ খেলেছেন এবং করেছেন ১৭ গোল।

সে তুলনায় বিশ্বকাপ দলে জায়গা না পাওয়া ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো গত মৌসুমেই চেলসির হয়ে ৫০ ম্যাচে ২০ গোল করেছেন।

৩৪ বছর বয়সী নেইমারের সঙ্গে অনেকেই তুলনা টানছেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি লিওনেল মেসির। মেসি ৩৫ বছর বয়সে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জিতিয়েছিলেন।

তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিভার দিক থেকে তুলনীয় হলেও মাঠের বাইরের জীবনযাপন ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে দুজনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

তবুও ব্রাজিল দলে নেইমারের জনপ্রিয়তা এখনও আকাশচুম্বী। মিডফিল্ডার কাসেমিরো এবং ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রসহ অনেক খেলোয়াড়ই তার প্রত্যাবর্তনের পক্ষে।

ভিনিসিয়ুস বলেন, “দলের সঙ্গে তাকে পাওয়া আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আমার আদর্শ। আশা করি তিনি দ্রুত মাঠে ফিরবেন এবং বিশ্বকাপে আমাদের সাহায্য করবেন।”

বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স এখন পর্যন্ত খুব একটা সন্তোষজনক নয়। মরক্কোর বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচে কষ্ট করে ড্র করা এবং হাইতির বিপক্ষে ৩-০ ব্যবধানে জিতলেও দলটি নিজেদের সেরা ছন্দে নেই। আক্রমণভাগে সৃজনশীলতার ঘাটতি স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে।

এর মধ্যে উইঙ্গার রাফিনিয়ার ইনজুরি ব্রাজিলের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। এরই মধ্যে কোচ আনচেলত্তি নিশ্চিত করেছেন যে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে নেইমারকে দলে পাওয়া যাবে। ফলে দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে তার মাঠে ফেরার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।

নেইমারের সাম্প্রতিক ক্যারিয়ার ইনজুরিতে জর্জরিত হলেও ব্রাজিলের বহু সমর্থক এখনও বিশ্বাস করেন, বড় মঞ্চে তার অভিজ্ঞতা ও প্রতিভাই দলের বর্তমান সমস্যার সমাধান এনে দিতে পারে।

এখন দেখার বিষয়, স্কটল্যান্ড ম্যাচে সুযোগ পেলে তিনি সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে পারেন কি না।