না ফেরার দেশে খালেদা জিয়া, শোকস্তব্ধ রাজনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও প্রভাবশালী অধ্যায় আজ চিরতরে বন্ধ হয়ে গেল। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

দলের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ভোর সাড়ে ছয়টার দিকে খালেদা জিয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাঁর মায়ের মৃত্যুর খবর দলীয় নেতাদের জানান। কিছুক্ষণ পর বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ।

দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। কারাবাস-পরবর্তী সময়ে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চলতি বছরের শুরুতে লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও বয়সজনিত দুর্বলতা ও দীর্ঘস্থায়ী রোগের চাপ তিনি আর সামলাতে পারেননি।

সর্বশেষ গত ২৩ নভেম্বর তাঁকে গুরুতর অবস্থায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক মাসের বেশি সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর সব চেষ্টা ব্যর্থ করে তিনি চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।

হাসপাতালে মৃত্যুর সময় তাঁর পাশে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। রাজনৈতিক জীবনের মতো শেষ সময়টিও ছিল উৎকণ্ঠা ও অপেক্ষায় ঘেরা।

রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘দেশনেত্রী’ এবং ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিত খালেদা জিয়া বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সামরিক শাসন-পরবর্তী রাজনীতিতে তাঁর উত্থান, ক্ষমতায় থাকা ও ক্ষমতার বাইরে সংগ্রামের ইতিহাস দেশটির রাজনীতিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বন্ধু-প্রতিপক্ষ নির্বিশেষে তাঁর মৃত্যুতে জাতীয় রাজনীতিতে এক শূন্যতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে।

বিএনপি সূত্র জানায়, তাঁর জানাজা আগামীকাল বুধবার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অনুষ্ঠিত হতে পারে। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের ঢল নামার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।

এক সময়ের ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী, পরে দীর্ঘদিন অসুস্থ ও বন্দিজীবনের কষ্ট বয়ে নেওয়া এক রাজনৈতিক নেত্রী-সব পরিচয় ছাপিয়ে আজ তিনি ইতিহাস। খালেদা জিয়ার প্রয়াণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি হারাল এক প্রভাবশালী, বিতর্কিত কিন্তু অনস্বীকার্য নাম।