বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মায়ের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি পর্যালোচনার পর দেশে ফেরার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরতে পারেন বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিএনপির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ফখরুলের উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে দুপুরে নয়াপল্টনে খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিলেও একই বক্তব্য দেন তিনি।
এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়াকে রবিবার রাত থেকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে। হৃদরোগ, লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতাসহ দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পাশাপাশি তাঁর ফুসফুসে নতুন সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁকে দেখতে লন্ডন থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের একটি দল ঢাকায় আসছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘মেডিকেল বোর্ড প্রয়োজন মনে করলে বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসবে।’
তারেক রহমানের দেশে ফেরা নিয়ে বিএনপি শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা জোরালো হলেও সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ কেউ জানাচ্ছেন না। খালেদা জিয়ার সংকটাপন্ন অবস্থার পরও সিদ্ধান্ত ‘রাজনৈতিক বাস্তবতা’র কারণে সহজ নয়-এমন ইঙ্গিতই দিয়েছেন তারেক রহমান নিজে।
শনিবার ভোরে নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লিখেন, ‘মায়ের স্নেহস্পর্শের আকাঙ্ক্ষা তীব্র হলেও সিদ্ধান্তটি এককভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটবে।’
অন্যদিকে সরকারের বিভিন্ন স্তর থেকে বারবার বলা হচ্ছে, তারেক রহমান চাইলে যেকোনো দিন দেশে ফিরতে পারেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সোমবার বলেছেন, তিনি আবেদন করলেই ‘এক দিনের মধ্যে’ ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে।
আজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীও বলেন, ‘বাংলাদেশে কারও কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি নেই। সরকার সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
২০০৮ সালে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর থেকে দেশে না ফেরা তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ইস্যুটি সম্প্রতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে। গত বছর সরকারের পতনের পর বিভিন্ন মামলায় তাঁর সাজা বাতিল হওয়ায় প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়।
এদিকে খালেদা জিয়ার বর্তমান চিকিৎসা–সংকট সেই আলোচনাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
