ইরানের শীর্ষ কমান্ডার নিহত, পাল্টা হামলায় ইসরাইলে নিহত ২

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি এবং বাসিজ বাহিনীর কমান্ডার গোলাম রেজা সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।

এমনকি ইরান একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরাইলের রামাত গান এলাকায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া তেল আবিব ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করলেও কিছু আঘাত হানে। কিছু ক্ষেত্রে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ থেকেও ক্ষতি হয়েছে বলে তদন্ত চলছে।

ইসরাইলি বাহিনী লেবাননের রাজধানী বৈরুতে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। একটি বহুতল ভবন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এসব হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন।

ইরানের হামলা শুধু ইসরাইলেই সীমাবদ্ধ নেই। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও বাহরাইন জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।

এদিকে, যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। ন্যাশনাল কাউন্টার টেররিজম সেন্টারের পরিচালক জো কেন্ট পদত্যাগ করেছেন।

তিনি বলেছেন, ‘এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নয়’ এবং সরাসরি অভিযোগ করেছেন-ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধে জড়িয়েছে।

এদিকে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেছেন, তারা হরমুজ প্রণালীতে নৌ সহায়তা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, আলী লারিজানি হত্যার প্রতিশোধ নিতেই তারা ইসরাইলে হামলা চালিয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা ইসরাইলের ‘শতাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হেনেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইসরাইলের লক্ষ্য করে হত্যাকাণ্ড এবং ইরানের পাল্টা হামলা সংঘাতকে দীর্ঘায়িত করছে।

এদিকে, যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এতে তেল ছাড়াও অ্যালুমিনিয়াম, সার ও শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলছে।