অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় ইসরায়েলের হামলা থেমে নেই। ফলে ধ্বংসস্তূপে মৃত্যুভয় নিয়েই ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন নতুন করে লড়াই করছেন বেঁচে থাকার জন্য।
গেল শনিবার গাজা সিটির আল-আব্বাস এলাকায় একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচজন নিহত হন। ঠিক সেই সময় বাড়ির কাছে বাজারে যাচ্ছিলেন ফায়ক আজুর।
তার ভাষ্য, “এক সেকেন্ড এদিকে-ওদিকে হলে আমারও মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। আমার তিন মেয়ের চোখে এখনো ভয়।”
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও চলছে হামলা
গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে প্রায় দুই মাস। কিন্তু এই সময়েই ইসরায়েল অন্তত ৫০০ বার হামলা চালিয়েছে এবং ৩৪০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষকে হত্যা করেছে, যার মধ্যে ৬৭ শিশুও রয়েছে।
ফায়ক আজুর বলছেন, “এটা কোনো যুদ্ধবিরতি না, বরং দুঃস্বপ্নের মতো সময়। কয়েকদিন শান্তি, তারপর আবার হঠাৎ বিস্ফোরণ, ধ্বংস আর মৃত্যু।”
দুঃস্বপ্নের শহরে অনিশ্চিত জীবন
২০২৪ সালে এক ইসরায়েলি হামলায় ফায়কের বাবা, মা, চাচাতো ভাইবোনসহ পরিবারের ৩০ জন নিহত হন। স্ত্রীও গুরুতর আহত হন, তার একটি আঙুল কেটে ফেলতে হয়।
ফায়ক বলেন, “আমাদের জীবন এখন ১ শতাংশ বেঁচে থাকার চেষ্টা, ৯৯ শতাংশ মৃত্যু ও ধ্বংস।”
যুদ্ধের কারণে তিনি নিজের বাড়িতেও ফিরে যেতে পারেন না, কারণ সেটি ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণাধীন ‘ইয়েলো জোন’ এর ভেতরে।
এছাড়া শহরে এখন তেমন কাজ নেই, ফলে আয়ের পথও বন্ধ।
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক আহেদ ফারওয়ানা মনে করেন, ইসরায়েল গাজাকে দক্ষিণ লেবাননের মতো একটি অনিশ্চিত অঞ্চলে পরিণত করতে চাচ্ছে।
“মাঝে মাঝে হামলা চলবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান আসবে না।”
৩২ বছর বয়সী রাঘদা ওবায়েদ চার সন্তানকে নিয়ে তাবুতে থাকেন। কারণ, ইসরায়েলি হামলায় তার বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
সম্প্রতি তিনি ইসরায়েলের আরও একটি হামলার সাক্ষী হয়েছেন।
“ধোঁয়ার কুণ্ডলী আর মানুষের চিৎকার দেখে মনে হলো- যুদ্ধ আবার শুরু হলো। আমি নিজেও কেঁপে উঠেছিলাম।”
তার প্রতিদিনের কাজ হলো খাবার সংগ্রহ করা ও পানি আনা।
রাঘদার ভাষায়, “আমাদের জীবন নেই- শুধু বাঁচার চেষ্টা আছে। দুই বছর ধরে আমরা আশ্রয় বদলাচ্ছি, এখন তৃতীয় বছরের দিকে যাচ্ছি। এসবের কোনো সমাধান নেই?”
গাজা শহরে এখন খাবার, পানি, কাজ- কোনো কিছুর নিশ্চয়তা নেই। মানুষ বেঁচে আছে সাহায্যের ওপর। শীত আসছে, আর তাদের মাথার ওপর কেবল ত্রিপলের তাবু।
রাঘদা বলেন, “আমাদের জীবন এখনো যুদ্ধের ভেতর, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ নেই।”
