মিরপুরসহ সারাদেশে চাঁদাবাজির তীব্র সমালোচনা করে তা সম্পূর্ণ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, দোকানদার, হকার এমনকি ভিক্ষুকদের কাছ থেকেও যে ‘চাঁদা’ আদায় করা হয়, তা আর চলবে না। জামায়াত চাঁদা নেবে না, চাঁদা দেবে না-দুর্নীতিও সহ্য করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে মিরপুর-১০ এলাকায় আয়োজিত নির্বাচনি জনসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুই হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের নগদ সহায়তায় মানুষের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না; বরং এসবের আড়ালে চাঁদাবাজির ঝুঁকি থাকে।
তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীক ইনসাফের প্রতীক। ইনসাফ না থাকায় সমাজে দুর্নীতি, লুটপাট, ব্যাংক ডাকাতি ও সন্ত্রাস বিস্তার লাভ করেছে। ইনসাফ প্রতিষ্ঠিত হলে এসব বন্ধ হবে।
বিগত বছরগুলোর রাজনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বহু মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে এবং গুম–খুনের শিকার হয়েছে। তিনি নতুন করে ‘ভোট ডাকাতি’ দেখতে চান কি না—সে প্রশ্ন ছুড়ে দেন জনতার দিকে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে পরিবর্তন, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে রায় দেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ১০ দলীয় জোটকে বিজয়ী করার অর্থ হবে চাঁদাবাজি, ফ্যাসিবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায়।
সমাবেশে তিনি মিরপুর এলাকার জলাবদ্ধতা, সন্ত্রাস, মাদক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কথা তুলে ধরে নির্বাচিত হলে এসব সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কথাও জানান।
সমাবেশে ১০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
