মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান যুদ্ধ ক্রমেই আরো বিস্তৃত হচ্ছে। উত্তেজনাকর এ পরিস্থিতিতে নতুন করে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দেশ জার্মানি ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, তারা এই যুদ্ধে জড়াবে না।
জার্মান সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সামরিক জোট ন্যাটোর কোনো সম্পর্ক নেই। তাই হরমুজ প্রণালি সামরিক শক্তি দিয়ে খোলা রাখার উদ্যোগেও জার্মানি অংশ নেবে না। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে গ্রিসও।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছেন, যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকার হচ্ছে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত তার নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খোলা রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে এবং ন্যাটোও এতে ভূমিকা রাখবে। তবে ইউরোপের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রত্যাশায় বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, যুদ্ধের ময়দানে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরাইল জানিয়েছে, তারা ইরানের তেহরান, শিরাজ, তাবরিজ, খুজেস্তান শহরে একযোগে বড় পরিসরে হামলা চালাচ্ছে। হামলায় বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানি সংবাদ মাধ্যম।
এছাড়া ইসরাইলি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেছেন, ইরানে হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, প্রতিদিন নতুন লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করা হচ্ছে।
লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, ইসরাইলি সীমান্তবর্তী শহর কিরিয়াত শমোনাকে লক্ষ্য করে রকেট এবং ড্রোন হামলা চালিয়েছে তারা। এছাড়া ইসরাইলি লক্ষ্যবস্তুতে ‘সেজিল’ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। ইসরাইলে অব্যাহত হামলায় এখন পর্যন্ত তিন হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যতদিন প্রয়োজন ততদিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে তেহরান প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের শত্রুদের জন্য বন্ধ, তবে অন্যান্য দেশের জন্য তা উন্মুক্ত রয়েছে।
