ইরানে যৌথ হামলার পর, পাল্টা ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ইরানের মধ্যাঞ্চলের ইশফাহান প্রদেশের বিভিন্ন স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এতে অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। পাল্টা জবাবে ইসরাইলের দিকে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান।

ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলের হোলেন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। হামলার ফলে সেখানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইরান দাবি করেছে, তারা ইরাক ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পক্ষ থেকে যুদ্ধ থামাতে একটি চুক্তির বিষয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত শর্তগুলো এখনো গ্রহণযোগ্য নয় । তিনি বলেন, শর্তগুলো এখনো যথেষ্ট ভালো নয়। তাই যুদ্ধবিরতি নিয়ে এখনই কথা বলতে প্রস্তুত নয় ওয়াশিংটন।

এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে। তিনি বলেন, প্রয়োজনে সেখানে আবারও হামলা চালানো হতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, রাজধানী রিয়াদ ও পূর্বাঞ্চলের আকাশে ১০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বলেছে, ওই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলের আরও কয়েকটি দেশে হামলার খবর পাওয়া গেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে অন্তত ৩৩টি ড্রোন ও ৯টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। কুয়েতের আকাশসীমায় সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ঢুকে পড়ে; এর মধ্যে দুটি আঘাত হানে। এতে তিনজন সেনাসদস্য আহত হন। কাতার জানিয়েছে, তারা চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও কয়েকটি ড্রোন প্রতিহত করেছে।

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে দূতাবাসের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার পর ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দূতাবাস।

এদিকে লেবাননে ইসরাইলের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২৬ জনে। একই সঙ্গে সংঘাতের কারণে প্রায় ৮ লাখ ৩১ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন। চলমান সংঘাত থামাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে।

সংঘাতের মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে। তবে জাপান জানিয়েছে, সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়টি তাদের জন্য ‌‌‌‌‌খুবই উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত।’

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার পরিধি বাড়ছে এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।