সম্পর্ক মেরামতে তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে নরেন্দ্র মোদির ভারত

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিক্ত হয়ে ওঠে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক। নির্বাচনের মাধ্যমে ঢাকার মসনদে পরিবর্তন আসতে যাওয়ায় এই সম্পর্ক মেরামতের আশায় আছে ভারত।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ঢাকার সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কে তৈরিতে নয়াদিল্লি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে।

দেশটি আশা করছে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পুরনো তিক্ততা অনেকটাই মিটিয়ে আনা সম্ভব হবে।

২০২৪ সালে ঢাকায় ক্ষমতার রদবদল হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। বিশেষ করে ঢাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে প্রকাশ্যে ভারতের বিরোধিতা করে বক্তব্য-স্লোগান ওঠতে থাকে।

তিক্ততা এমন পর্যায়ে যায় যে, ভিসা বন্ধ হওয়া, বাণিজ্য সীমিত করার মত সিদ্ধান্ত আসে। দুই দেশেই কূটনৈতিক স্থাপনা আক্রান্ত হয়।

সবশেষ ভারতে টি-২০ বিশ্বকাপ খেলা থেকেও বিরত থাকে বাংলাদেশ।

এর মধ্যে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে বড় জয় পেয়ে ক্ষমতায় বসার অপেক্ষায় আছে তারেক রহমানের বিএনপি।

ভারতের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, এতে করে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার ‘সম্পর্ক বিঘ্নকারী’ অস্থিরতা দূর হবে এবং নয়াদিল্লি ও ঢাকার সম্পর্ক নতুনভাবে শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সরকারি সূত্রে এনডিটিভি লিখেছে, ভারতীয় কূটনৈতিকরা সবসময়ই বাংলাদেশে একটি নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় ছিল, যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখবে।

এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ভাষায়, বিএনপির প্রতি ভোটারদের রায় উদার মূল্যবোধ ও ১৯৭১ সালের চেতনার প্রতি সম্মানকে সমর্থন করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ভারতের জন্য সংবেদনশীল একটি বিষয় ছিল বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা।

কর্মকর্তাদের দাবি, এ নিয়ে ঢাকার কাছে বারবার উদ্বেগ জানানো হলেও তা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি, ফলে আস্থার সংকট বেড়েছে।

এনডিটিভি লিখেছে- একই সঙ্গে ভারতের ধারণা, ওই সময় বাংলাদেশে উগ্রবাদী ও পাকিস্তানপন্থী রাজনীতির পরিসর বেড়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে ভারত ঢাকায় নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাবর্তনকে সম্পর্ক ঠিক করার সুযোগ হিসেবে দেখছে। এখন নজর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দিকে।

ভারতীয় কর্মকর্তারা তাকে নিয়ে সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। অতীতে বিএনপি সরকারের সঙ্গে মতপার্থক্য ছিল স্বীকার করেও নয়াদিল্লি মনে করছে, অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য তারেক রহমান বাস্তবভিত্তিক কূটনৈতিক অবস্থান নিতে পারেন।

এই আশাবাদের প্রতিফলন দেখা গেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বার্তায়।

তিনি এক্সে লিখেছেন, তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয়ের জন্য তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মোদি দুই দেশের শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির প্রতি ভারতের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরেছেন।

কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে ভারত।

সরকারি সূত্র এনডিটিভিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেন।

এর আগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছিলেন।