সৌহার্দ্য রহমান
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, সিরিয়া, নেপাল- সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিতই দেশে দেশে বিক্ষোভের মুখে সরকার পতনের ঘটনা ঘটছে। এবার কি ইরানের আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতন ঘটতে যাচ্ছে?
সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভে উত্তাল ইরানে এই প্রশ্নটি সামনে আসছে।
ইরানে কি হচ্ছে? কেন আন্দোলন চলছে?
ইরানে এই আন্দোলন শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। দেশটির টাকার মান কমে যাওয়ার পর জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
ইরানিদের দাবি ছিল নিত্যপণ্যের দাম কমানো, সেই আন্দোলনে সরকারি বাহিনী গুলি চালালে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে।
তেহরানসহ শতাধিক শহরে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাস্তায় নেমে আসে। সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় বিক্ষোভকারীদের পাথর ছুড়তেও দেখা যায়। বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দিচ্ছে আন্দোলনকারীরা।
আরও পড়ুন: ইরানে সরকারবিরোধী ব্যাপক বিক্ষোভ
বেশ কয়েক বছরের মধ্যে ইরানে এটিই সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী আন্দোলন।
বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর পতনের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছে। একইসঙ্গে তারা নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলাভির প্রত্যাবর্তনের দাবি জানাচ্ছেন।
রেজা পাহলাভির বাবা ইরানে ইসলামী বিপ্লবে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়েছিলেন। কয়েক দশক পর তার সমর্থকরা দেশটিতে আবারও সংগঠিত হচ্ছেন।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি
ইরানে বিক্ষোভ থামাতে সরকারি বাহিনীকে বেগ পেতে হচ্ছে। পরিস্থিতি সামলাতে সরকারি বাহিনীর গুলি ও মারধরে এ পর্যন্ত ৪৫ জন আন্দোলনকারী মারা গেছেন। আটক করা হয়েছে প্রায় আড়াই হাজার বিক্ষোভকারীকে।
এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। বিক্ষোভকারীরাও মারমুখী হয়ে ওঠছে। তাতে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর ৮ জন সদস্যও মারা গেছেন।
সহিংসতা যাতে ছড়াতে না পারে- সেজন্য সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে।
ইরানের বিক্ষোভ বিদেশি ইন্ধন?
ইরানে কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যেও গত কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন ইস্যুতে নিয়মিত বিক্ষোভ হচ্ছে। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন।
কারণ যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি বিক্ষোভকারীদের সমর্থন দিচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালালে ইরানে হামলা চালানোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফলে এত বছর ধরে ইরানের ইসলামী শাসনব্যবস্থার পতনে পশ্চিমারা যে চেষ্টা চালাচ্ছে, সে তৎপরতা এখন আরও জোরদার হয়েছে।
ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলাভিও তার সমর্থকদের আন্দোলন জোরদার করার আহ্বান জানাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীরা তার পক্ষ নিয়ে স্লোগানও দিচ্ছেন। তাতে এবারের আন্দোলন ইরানের পুরনো রাজনৈতিক বিরোধিতাকেও সামনে আনছে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে- ব্যাপক প্রাণহানির কারণে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠেছে। তাতে সরকার বিপদে পড়েছে, পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে এবং তা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিদেশি চাপ ও অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে এই আন্দোলন দেশটিতে ইসলামী শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
ইরানের পরিস্থিতি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও সিরিয়ার বাস্তবতার দিকে এগুচ্ছে কিনা- সেটিই এখন পর্যবেক্ষণ করছেন বিশ্লেষকরা।
