লাখো জনতার ভালোবাসায় খালেদা জিয়ার শেষ বিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় রাজধানীর সংসদভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে তাঁর স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

দাফন প্রক্রিয়ায় অংশ নেন বড় ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

এর আগে বেলা ৩টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা মণ্ডলীর অন্য সদস্য, সেনাবাহিনী প্রধান, নৌবাহিনী প্রধান, বিমনা বাহিনী প্রধান, বিএনপি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ লাখো সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

জানাজার আগে তারেক রহমান মায়ের জন্য দোয়া চান এবং তার পক্ষে সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থতায় ভোগা খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে মারা যান।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। তিনি আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও চোখের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি লন্ডনে চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন তিনি। পুনরায় অসুস্থ হয়ে পড়লে ২৩ নভেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন খালেদা জিয়া।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা ৪৩ বছর তিনি দলটির নেতৃত্ব দেন। তিনবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়ে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকার জন্য তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ নামে পরিচিত ছিলেন।

১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমান হত্যার পর রাজনৈতিক সংকটে বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ এড়িয়ে চলার নীতি অনুসরণ করেন বলে বিভিন্ন সময়ে উল্লেখ করেছিলেন।