আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইউক্রেন যুদ্ধের সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন খসড়া শান্তি প্রস্তাব তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।
খসড়া পরিকল্পনায় কিয়েভকে ভূখণ্ড ছাড় দেওয়া থেকে শুরু করে সামরিক বাহিনীর আকার অর্ধেক কমানোর মতো শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এ প্রস্তাব নিয়ে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এ সপ্তাহে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব রুস্তেম উমেরভের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি ২৮ দফার শান্তি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
নতুন প্রস্তাবে কি আছে আসুন জেনে নেই-
ইউক্রেনের দনবাসের পূর্বাঞ্চলের অবশিষ্ট অংশ রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়া, ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনী প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা, কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্র ত্যাগ করাসহ বেশ কিছু প্রস্তাবনা।
প্রতিদানে যুক্তরাষ্ট্র সীমিত সামরিক সহায়তা পুনরায় চালুর ইঙ্গিত দিয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, পুরো খসড়া পরিকল্পনা রাশিয়ার পক্ষেই বেশি ঝুঁকে আছে এবং এটি পুতিনের জন্য বেশ সুবিধাজনক হবে।
ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি আরও জানায়, রাশিয়া যে শর্তগুলো যুদ্ধ অবসানের জন্য কয়েক বছর ধরে সামনে আনছে, নতুন পরিকল্পনাটি সেগুলোর প্রায় হুবহু অনুসরণে তৈরি।
খসড়ায় রুশ ভাষাকে ইউক্রেনে সরকারি মর্যাদা দেওয়া এবং রুশ অর্থোডক্স চার্চের ইউক্রেনীয় শাখাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। এতে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও জাতীয় পরিচয় সংক্রান্ত বিষয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
তবে, রাশিয়া অবশ্য নতুন কোনো শান্তি পরিকল্পনা তৈরি হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে ঠিকই, তবে যুদ্ধ শেষে আলোচনায় “নতুন কোনো অগ্রগতি নেই।”
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ থামাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে কার্যকর ও শক্তিশালী নেতৃত্ব দিতে হবে।
টেলিগ্রামে তিনি লেখেন, রক্তপাত বন্ধ করা ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব অংশীদারের সমন্বয় জরুরি। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব এতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
