ইরান যুদ্ধের পর থেকে বিশ্বজুড়েই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিন, লেবানন, ইয়েমেন, সিরিয়ার পর ইরানে ইসরায়েলি হামলাকে বর্বরতা হিসেবেই দেখছেন অনেকে।
বাংলাদেশ-ভারতসহ বিশ্বের বাংলা ভাষী মুসলমানরাও তেল আবিবের তীব্র সমালোচনা করছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে এবার নতুন দুটি শব্দ ব্যবহার হতে দেখা যাচ্ছে।
ইসায়েলের পরিবর্তে ‘হিজ্রায়েল’ ও ‘hijrael’ শব্দ দুটি ব্যবহার করছেন সমালোচনাকারীরা।
ইসরায়েলের সমালোচনার জন্য কেন নতুন শব্দ খুঁজে নিতে হচ্ছে- কয়েকজন ফেইসবুক ব্যবহারকারীর কাছে তা জানতে চেয়েছিল বাংলা ইনসাইট টোয়েন্টিফোর ডটকম।
ইসরায়েলকে হিজ্রায়েল বলার কারণ
বুধবার বাংলাদেশের বাণিজ্যিক এলাকা চট্টগ্রামের একজন ফেইসবুক ব্যবহারকারী আতাউর রহমানের সঙ্গে কথা হয় বাংলা ইনসাইট টোয়েন্টিফোর ডটকমের।
এই শিক্ষার্থী ফেইসবুকে নিয়মিতই বেনয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের বিরোধিতা করছেন, কিন্তু কোথাও তাকে ইসরায়েল শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায় নি।
ঘুরে ফিরে তিনি ‘হিজ্রায়েল’ শব্দটিকেই হাতিয়ার করছেন সমালোচনার ভাষা হিসেবে।
জনাব আতাউরের দাবি, ফেইসবুকে ‘রিচ’ কমে যাওয়ার শঙ্কায় তিনি ইসরায়েল নামটি এড়িয়ে যাচ্ছেন।
তার ধারণা, ফেইসবুক ইসরায়েলের সমালোচনা পছন্দ করে না এবং এ ধরণের কার্যক্রমের জেরে একাউন্ট বাতিলও হয়ে যেতে পারে।
ফেইসবুক ব্যবহারকারীদের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে প্রতিষ্ঠানটির কমিউনিটি গাইডলাইনের ভিত্তিতে। সে হিসেবে ঘৃণা, জাতিগত বিদ্বেষের মত স্পর্শকাতর বিষয়ে ব্যবহারকারীদের তৎপরতায় লাগাম টানতে দেখা যায় ফেইসবুককে।
ফিলিস্তিন-ইসরায়েলের সংঘাতকে কেন্দ্র গত অর্ধ যুগ ধরেই ফেইসবুকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠলেও প্রতিষ্ঠানটি ইহুদিদের সমালোচনা নিয়ন্ত্রণে পক্ষপাতের সমালোচনা এড়িয়ে গেছে।
তবে আতাউর রহমানের মত বাংলাদেশের অনেকে ব্যবহারকারীই বিশ্বাস করেন যে, ফেইসবুক ইসরায়েলের সমালোচনা করার প্লাটফর্ম না।
ঢাকার বেসরকারি চাকরিজীবী শারমীন মুর্শিদের দাবি, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কয়েকটি পোস্ট করার পর থেকেই তার ফেইসবুক ‘ডাউন’ হয়ে গেছে।
“আগে ভালই লাইক-কমেন্টস পেতাম। এখন মনে হচ্ছে সেটা কমে গেছে। ড্যাশবোর্ডে ভিউ কমে যাওয়ার বিষয়টি দেখতে পাচ্ছি।”
তার ভাষ্য- এর পেছনে একটাই কারণ রয়েছে, সেটি হচ্ছে ইসরায়েলের সরকারের সমালোচনা।
শারমীন মুর্শিদ বলেন, “ইসরায়েল যা করছে, তার সমালোচনা করতেই হবে। আমি সেটি বন্ধ করতে পারি না। আমি কেবল শব্দে একটু পরিবর্তন এনেছি, মানুষ যা বুঝার বুঝে নিতে পারছে।”
একই দাবি কাতারের বাঙালি অভিবাসী সোহেল মাহমুদের।
তিনি বলছেন, ভিডিও করে ফেইসবুক থেকে টাকা উপার্জনের সুযোগ যাতে হাতছাড়া না হয়, সেজন্য তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
“কয়েক মাসের চেষ্টায় ফেইসবুক একাউন্টকে একটা পর্যায়ে এনেছি। শুনছি, ইসরায়েলের সমালোচনা করলে আইডি ব্যান হয়ে যায়। সেজন্য একটু কৌশল করে হিজ্রায়েল লিখছি। মনের কথাগুলোও লিখতে পারলাম, আইডিও সেইফ থাকলো।”
আবার ব্যঙ্গাত্মক হিসেবেও অনেকে ‘হিজ্রায়েল’ শব্দের ব্যবহার করছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ফয়সাল হোসেন বলছেন, ‘হিজ্রায়েল’ শব্দটি শুনে তার কাছে ভালো লেগেছে।
এই তরুণ উদ্যোক্তা বলেন, “অনেকে ব্যবহার করছে। দেখে নতুন লাগলো। আমিও লিখছি এটি, এর পেছনে অন্য কোন ভাবনা ছিল না।”