ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বলেছেন, সরকার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছেন।
তিনি বলেন, “ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগ সবার দায়বদ্ধতা বাড়িয়েছে। তবে এর প্রকোপ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকারের কোন উদ্যোগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব হবে না।”
শুক্রবার এফডিসিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে ভোগান্তির নাম। ঢাকাসহ সারাদেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ না করলেও হাসপাতালগুলোতে গেলে এর ভায়াবহতা দেখা যায়। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষেরা চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
“ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে, সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সমন্বিত পদক্ষেপ ও চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গুর কাছে যাতে আমরা অসহায় হয়ে না পড়ি।”
তিনি বলেন, “ডেঙ্গু বিরোধী অভিযানে আদায়কৃত অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ পরিবারকে প্রদান করা হোক। পৃথিবীর অনেক উন্নতদেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর টিকায় বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সঠিক হলেও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকলে সরকার ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ক্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”
হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বিগত শাসন আমলে ডেঙ্গু চিকিৎসার নামে নানাধরণের অনিয়ম স্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মশা মারার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস সরবরাহে অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কৃত্রিম স্যালাইন সংকট, সরকার নির্ধারিত ফি এর চেয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল।
“আওয়ামী শাসন আমলে ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১,৭০৫ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করে। সেই সময় দুই সিটি কর্পোরেশন মশার লার্ভা নিধনের জন্য অবিজ্ঞানসম্মত ভাবে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁসের চাষের প্রকল্প গ্রহণ করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী সরকার। সেই সময়ে নানা অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সবার্ত্মক চেষ্টা করছে।”
“ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ” শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল কবি নজরুল সরকারি কলেজকে পরাজিত করে সরকারি দল কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিজয়ী হয়।
