ভূমিকম্প শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ড, কখনও এক মিনিট আগেই মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা চলে আসছে।
প্রযুক্তির এই সুবিধা ইতোমধ্যে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষকে সম্ভাব্য প্রাণহানি থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করছে।
সম্প্রতি ভেনেজুয়েলা, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় লাখো মানুষ আগাম সতর্কবার্তা পেয়েছেন।
এপি জানিয়েছে, এখন বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই আর্থকোয়েক আর্লি ওয়ার্নিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, মেক্সিকো, চীন, ইতালি, তুরস্ক, রোমানিয়া ও তাইওয়ানসহ বেশ কয়েকটি দেশ নিজস্ব ভূমিকম্প সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।
ভেনেজুয়েলায় জাতীয় পর্যায়ের এমন ব্যবস্থা না থাকলেও অনেকে গুগলের অ্যান্ড্রয়েড আর্থকোয়েক অ্যালার্টসের মাধ্যমে আগাম সতর্কবার্তা পান।
যেভাবে মোবাইলে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা পাওয়া যায়
ভূমিকম্পের সময় প্রথমে সৃষ্টি হয় দ্রুতগতির পি-ওয়েভ, যা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর। এরপর আসে এস-ওয়েভ, যা মূল ধ্বংসযজ্ঞ ঘটায়। আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম এই সময়ের ব্যবধানকেই কাজে লাগায়।
গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ব্যবস্থা মোবাইল ফোনের অ্যাকসেলেরোমিটার সেন্সর ব্যবহার করে। কোন স্থির অবস্থায় থাকা ফোন পি-ওয়েভ শনাক্ত করলে সেটি গুগলের সার্ভারে সংকেত পাঠায়। একই এলাকার আরও ফোন থেকে একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেলে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভূমিকম্প নিশ্চিত করে আশপাশের ব্যবহারকারীদের কাছে সতর্কবার্তা পাঠায় গুগল।
অন্যদিকে অনেক দেশ ভূকম্পন মাপার সিসমোমিটার ও বিশেষ সেন্সর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সতর্কতা জারি করে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বার্কলি সিসমোলজি ল্যাবের পরিচালক রিচার্ড অ্যালেন জানান, ২০২০ সালে চালুর সময় গুগলের এই সেবার আওতায় ছিল প্রায় ২৫ কোটি মানুষ। বর্তমানে বিশ্বের ২৫০ কোটিরও বেশি মানুষ এর আওতায় এসেছে।
তার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে গড়ে ৬০টি ভূমিকম্পের জন্য প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
ভেনেজুয়েলায় যেভাবে কাজে আসে ভূমিকম্পের অ্যালার্ট
ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের বাসিন্দা পেরিক্লেস সানচেজ জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কয়েক মিনিট আগে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সতর্কবার্তা আসে। ফলে তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘরের বাইরে যেতে পারেন।
তিনি বলেন, “আমরা বাইরে বের হওয়ার পরই ভূমিকম্পের কম্পন অনুভব করতে শুরু করি।”
বর্তমানে কলম্বিয়ায় থাকা ভেনেজুয়েলার নাগরিক ডায়োজেনেস লোপেজও জানান, নিজের দেশের ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা তিনি কলম্বিয়ায় বসেই ফোনে পেয়েছিলেন।
সবচেয়ে উন্নত ভূমিকম্প অ্যালার্ট ব্যবস্থা জাপানে
জাপান বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত ভূমিকম্প সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ব্যবহার করে। ২০১১ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্প ও সুনামির পর দেশটি সমুদ্রের নীচে হাজার হাজার কিলোমিটারজুড়ে সেন্সর নেটওয়ার্ক বসায়।
এই ব্যবস্থার ফলে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা প্রায় ২০ সেকেন্ড এবং সুনামির সতর্কতা প্রায় ২০ মিনিট আগে পাচ্ছে জাপানিরা।
