শীত এলেই অনেকের দিন শুরু হয় গরম চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে। শীতের কামড় বাড়লে সেই কাপের সংখ্যাও বাড়তে থাকে। কিন্তু শীতের সকাল–বিকেলের ‘ওভারডোজ’ চা–কফিই কি হাঁটুর ব্যথার অন্যতম কারণ? বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ক্ষেত্রে চা–কফি সত্যিই জোড়ায় জোড়ায় অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে।
কেন শীতে সমস্যা বাড়ে?
শীতে সাধারণত শরীরে পানির ঘাটতি বাড়ে। ঠান্ডায় তৃষ্ণা কম লাগে বলে অনেকেই পানি কম খান। কিন্তু একই সময়ে চা-কফি খাওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। এখানেই শুরু সমস্যা।
ক্যাফিন কীভাবে জোড়ায় প্রভাব ফেলে?
চা-কফিতে থাকা ক্যাফিন হালকা ডিউরেটিক অর্থাৎ মূত্রের মাধ্যমে শরীর থেকে জল বের করে দিতে সাহায্য করে। এতে শরীর আরও ডিহাইড্রেট হতে পারে।
জোড়ার ভেতরে থাকা সাইনোভিয়াল ফ্লুইডের বেশিরভাগটাই জলভিত্তিক। এর কাজ—
- জোড়াকে মসৃণ রাখা
- হাড়ে হাড়ে ঘর্ষণ কমানো
- লিগামেন্ট, কার্টিলেজ রক্ষা করা
যখন শরীরে জলের ঘাটতি বাড়ে, তখন এই তরল ঘন হয়ে যায় বা কমে যায়। তখন জোড়ায় স্টিফনেস, ব্যথা, এমনকি পুরনো আর্থ্রাইটিস থাকলে জ্বালা-যন্ত্রণা বাড়তে পারে।
তাহলে কি চা-কফি খেলেই ব্যথা?
না—চা নিজে ক্ষতিকর নয়।
ক্ষতিকারক হয় যখন:
- দিনে ৪–৫ কাপের বেশি চা–কফি খাওয়া হয়।
- জল কম পান করা হয়।
- আগে থেকেই আর্থ্রাইটিস বা কার্টিলেজ ক্ষয়ের সমস্যা থাকে।
- শীতে শারীরিক নড়াচড়া কমে যায়।
বৈজ্ঞানিকভাবে যা জানা যায়
- দিনে ৩০০–৪০০mg ক্যাফিন (প্রায় ৩–৪ কাপ চা/কফি) সাধারণত নিরাপদ।
- অতিরিক্ত ক্যাফিন শরীরে তরল কমিয়ে অস্থিসন্ধি শুষ্ক করতে পারে।
- ডিহাইড্রেশন আর্থ্রাইটিসের ব্যথা তীব্র করে তোলে—এটি বহু রিউমাটোলজিস্টের মত।
- শীতে রক্তনালীর সংকোচনের কারণে অস্থিসন্ধিতে রক্তপ্রবাহ কমে ব্যথা বেড়ে যায়—এটিও বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যা।
তাহলে কতটা চা–কফি খাওয়া উচিত?
- আর্থ্রাইটিস থাকলে দিনে ১–২ কাপ চা/কফি যথেষ্ট।
- সুস্থ মানুষ নিরাপদে দিনে ২–৩ কাপ খেতে পারেন, তবে এর বেশি হলে জল বাড়াতে হবে।
- প্রতিটি কাপ চায়ের সঙ্গে ১–২ গ্লাস পানি খেলে ঝুঁকি অনেক কমে।
চায়ের বদলে কী খাওয়া ভাল?
শীতকালে শরীর হাইড্রেট রাখতে চিকিৎসকেরা এসব পানীয়র পরামর্শ দেন—
- গরম লেবু–মধুর পানি
- আদা–হলুদ–দারুচিনি চা (ক্যাফিন নেই)
- বাদামের দুধ বা সয়া মিল্ক, ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ
*হট কোকো (লো সুগার)
*গরম ওটস স্মুদি - কাওয়া বা হার্বাল চা
ব্যথা কমাতে আরও যে অভ্যাসগুলো জরুরি
- প্রতিদিন ১০–১৫ মিনিট হাঁটু স্ট্রেচিং
- শীতে শরীর গরম রাখা
- ওজন নিয়ন্ত্রণ করা
- দীর্ঘক্ষণ বসে না থাকা
- ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবার (মাছ, বাদাম) খাওয়া
