২০২৬ সালের শুরু থেকেই বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে ‘পৃথিবীর শেষ’ নিয়ে নানা ভবিষ্যদ্বাণী। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর তা আবার আলোচনায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে- এই বছরই নাকি শুরু হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ঘটবে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ, এমনকি ভিনগ্রহের প্রাণীদের আগমনও!
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ভবিষ্যদ্বাণীর পেছনে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই। বরং পুরোনো ভবিষ্যদ্বাণী, ভুল ব্যাখ্যা এবং বর্তমান বৈশ্বিক অস্থিরতাই এই আতঙ্ক ছড়ানোর মূল কারণ।
কারা দিচ্ছেন পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী?
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন বুলগেরিয়ার অন্ধ রহস্যময়ী বাবা ভাঙ্গা, যাকে অনেকেই বালকান অঞ্চলের নস্ত্রাদামুস বলে থাকেন।
তার নামে প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে-
১. তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হতে পারে।
২. ভয়াবহ ভূমিকম্প, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটতে পারে।
৩. ভিনগ্রহের মহাকাশযান পৃথিবীতে প্রবেশ করতে পারে।
৪. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
একইভাবে, নস্ত্রাদামুসের শতাব্দী প্রাচীন ভবিষ্যদ্বাণীর নতুন ব্যাখ্যাও ২০২৬ সালের সঙ্গে মিলিয়ে ছড়ানো হচ্ছে।
এছাড়া ব্রাজিলের কথিত ‘লিভিং নস্ত্রাদামুস’ অ্যাথুস স্যালুমে এবং অন্যান্য কথিত ভবিষ্যদ্বক্তারাও যুদ্ধ, সাইবার হামলা ও বৈশ্বিক সংকটের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
কেন হঠাৎ শেষ জমানার আতংক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আতঙ্কের পেছনে রয়েছে কয়েকটি বড় কারণ।
এর মধ্য রয়েছে ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা, দক্ষিণ চীন সাগরের বিরোধের বৈশ্বিক সংকট।
রয়েছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আর প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাব।
আর সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে ভয়ভিত্তিক এসব কনটেন্ট দ্রুত ভাইরাল হয়ে আতংক সৃষ্টি করছে।
কেয়ামত কবে হবে?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, অনিশ্চিত সময়ে মানুষ একটি নির্দিষ্ট ‘শেষের তারিখ’ কল্পনা করে মানসিক স্বস্তি খোঁজে।
কিন্তু ২০২৬ সালে পৃথিবীর শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ইতিহাসে এর আগেও বহুবার পৃথিবী ধ্বংসের ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, যেমন-
২০০০ সালের Y2K আতঙ্ক, ২০১২ সালের মায়া ক্যালেন্ডার তত্ত্ব- কিন্তু প্রতিবারই এসব ভবিষ্যদ্বাণী ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২৬ সাল পৃথিবীর জন্য চ্যালেঞ্জপূর্ণ হতে পারে- যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন বা প্রযুক্তিগত রূপান্তরের কারণে। তবে পৃথিবীর শেষ হওয়ার মতো কোন বাস্তব প্রমাণ নেই।
তাদের মতে, পৃথিবী আরও বহু বছর শুধু টিকেই থাকবে না, বরং মানুষের বসবাসের উপযোগীও থাকবে।
তাই আতঙ্ক নয়, যাচাই করা তথ্যের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
