আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশটিতে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের নতুন অধ্যায় শুরু করল যুক্তরাষ্ট্র।
কয়েক মাসের হুমকি ও চাপের পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় রাজধানী কারাকাসসহ একাধিক এলাকায় সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়।
এরপরই মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক বিমানে নিউইয়র্কের স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড বেসে নেওয়া হয়।
এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, ‘নিরাপদ ক্ষমতা হস্তান্তর’ না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা যুক্তরাষ্ট্রই ‘পরিচালনা’ করবে। একই সঙ্গে দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত ভূমিকার কথাও জানান তিনি। তবে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে, রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার মাদুরোর আটককে ‘অপহরণ’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, মাদুরোই ভেনেজুয়েলার একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। তবে কারাকাস থেকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি মাদুরোর মুক্তির দাবি জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রত্যাখ্যান করেছেন। এতে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ভেনেজুয়েলার তেল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু লিপো বলেন, ভেনেজুয়েলার তেল খাত পুনরুজ্জীবিত করতে বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বর্তমানে দেশটির তেল উৎপাদন দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে, যেখানে একসময় তা ছিল ৩০ লাখের বেশি। ট্রাম্পের বক্তব্যে ‘তেল নিয়ন্ত্রণের’ ইঙ্গিত থাকায় অনেকেই বলছেন, পুরো অভিযানের পেছনে অর্থনৈতিক স্বার্থই মুখ্য।
এদিকে, কারাকাসে মাদুরো আটক হওয়ার খবরে কেউ কেউ উল্লাস প্রকাশ করলেও অনেকেই শঙ্কিত। কেউ বলছেন পরিবর্তনের সময় এসেছে, আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন এতে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।
খাদ্য ও জ্বালানি কিনতে লাইন পড়েছে, মানুষ ঘরে থাকার চেষ্টা করছে। ভবিষ্যতে নতুন হামলা হবে কি না। এই উৎকণ্ঠাই এখন সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশি।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত’ বলে মন্তব্য করেছেন।
সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। রাশিয়া ও চীন হামলার নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মাদুরোর অপসারণকে স্বাগত জানালেও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক চলছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং এতে মানবাধিকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার ও ‘নার্কো-সন্ত্রাসে’ জড়িত থাকার অভিযোগে বিচার শুরু হতে পারে।
তবে ভেনেজুয়েলায় বাস্তবে কারা ক্ষমতায় থাকবে, যুক্তরাষ্ট্র আদৌ কতটা সরাসরি শাসনে যাবে এবং তেলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত।
