দীর্ঘদিনের নিখুঁত পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র আটক করে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে।
কয়েক মাসের সেই পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র নিয়োগ দেয় দক্ষ গোয়েন্দা, মাদুরো সরকারের মধ্যে তৈরি করা হয় তথ্যদাতা।
খাওয়া থেকে শুরু করে ঘুমানো- মাদুরোর প্রতি মুহুর্তের গতিবিধির উপর নজর রাখতে থাকেন মার্কিন গোয়েন্দারা। তারপরই চূড়ান্ত অভিযান। আসুন জেনে নেই নজিরবিহীন সেই অভিযানের কাহিনী।
ছত্রিশ বছর আগেও ঘটেছিলো একই ঘটনা। পানামার প্রেসিডেন্ট নরিয়েগাকে নিজ দেশ থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিলো বুশ প্রশাসন।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি দ্বিতীয়বারের মতো ঘটানো হলো সেই বিরল ঘটনা। তার চেয়েও বিরল এর নিখুঁত পরিকল্পনা। প্রতিটি ধাপই গোপনীয় থেকে অতিগোপনীয়।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে কারাকাসের সংঘাত শুরু ২৬ বছর আগে বলিভিয়া বিপ্লবের অংশ হিসেবে সংবিধান সংস্কার ও তেল খাতের জাতীয়করণ থেকে।
২০২৫ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার ওপর নতুন করে চাপ বাড়ান। ক্যারিবীয় সাগরে মোতায়েন করা হয় ব্যাপক সেনা ও রণতরি।
চূড়ান্ত অভিযানের কর্মপরিকল্পনা শুরু হয় কয়েক মাস আগে। মার্কিন গোয়েন্দারা পর্যবেক্ষণ করতে থাকেন ৬৩ বছর বয়সী মাদুরো কোথায় ঘুমান, কী খান, কী পোশাক পরেন, এমনকি তার পোষা প্রাণীগুলোর আচরণ কেমন।
এছাড়া মাদুরোর বাসভবনের প্রবেশপথ অনুশীলনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী ওই ভবনের হুবহু পূর্ণাঙ্গ একটি প্রতিরূপও তৈরি করে। অভিযান নিখুঁত করতে মাদুরোর কম্পাউন্ডের ডামি তৈরি করে প্রশিক্ষণ নেন মার্কিন সেনারা।
অভিযান নির্বিঘ্ন করতে এফবিআইয়ের সঙ্গে যোগ দেয় বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ডেল্টা ফোর্স।
কয়েক মাসের নিখুঁত পরিকল্পনা ও মহড়া শেষে অভিযান। স্থানীয় সময় শনিবার গভীর রাতে একাধিক শক্তিশালী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস।
অভিযানে বোমারু বিমান, ড্রোনসহ ১৫০টি বিমানের বহর অংশ নেয়। সাগর ও স্থল ভাগের ২০টি স্থান থেকে চলে অভিযান। কোন রকম প্রতিরোধ গড়ে তোলার আগেই ভেনেজুয়েলার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিস্ক্রিয় করে দেয় মার্কিন বাহিনী।
পরে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে একটি সুরক্ষিত দুর্গ থেকে আটক করা হয়।
পরে হেলিকপ্টারে করে নানা যান পরিবর্তন করে গুয়ান্তামো নৌঘাঁটিতে নেয়া হয় তাদের। সেখান থেকে নিউইয়র্কের পথে রওনা।
রাত ১০টা ৪৬মিনিটে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর ছবি প্রকাশ করে তাকে ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ধরার কথা জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
