থাই-কম্বোডিয়া সংঘর্ষে দু’পক্ষের নিহতের সংখ্যা বাড়ছে, নিরাপদ আশ্রয়ে কয়েকহাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সীমান্তে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। বিমান হামলা, কামান ও ড্রোন আক্রমণসহ ভারী অস্ত্রের ব্যবহারে দুই দেশের মধ্যে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হচ্ছে। সংঘর্ষের তৃতীয় দিনে উভয় দেশের কমপক্ষে ১৭ জন নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে কয়েক ডজন মানুষ।

এদিকে সীমান্তবর্তী তিনটি প্রদেশে ২১ হাজারের বেশি কাম্বোডিয়ান নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছে। অনেক এলাকায় স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

থাই হামলায় কাম্বোডিয়ায় ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত অন্তত ২০ জন।

কম্বোডিয়ার তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, থাই সামরিক বাহিনী রাতভর আর্টিলারি হামলা ও সকালে নতুন আক্রমণ চালায়, যা প্রধানত বেসামরিক গ্রামগুলোকে লক্ষ্য করেছে।

এদিকে কম্বোডিয়ার হামলায় থাইল্যান্ডের ৩ সৈন্য নিহত হয়েছে।

থাইল্যান্ড আরও দাবি করেছে যে কম্বোডিয়ার হামলায় তাদের সীমান্তবর্তী সা কেও প্রদেশে বেসামরিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে কেউ নিহত হয়নি।

কম্বোডিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী
মোট বাস্তুচ্যুত ২১ হাজার ২১৯ জন। ৮০০–১,০০০ এর বেশি বন্দিকে অডার মিয়াঞ্চে প্রাদেশিক কারাগার থেকে সিয়েম রিয়াপে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিন প্রদেশের বেশিরভাগ স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে।

কম্বোডিয়ার পোইপেট শহর প্রশাসন বাসিন্দাদের জরুরি বার্তা দিয়ে আশ্রয়ে যেতে বলেছে।

কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেন দাবি করেছেন, “২৪ ঘণ্টা যুদ্ধবিরতি মেনে চলার পরেও থাই হামলা বন্ধ হয়নি। বাধ্য হয়ে আমরা পাল্টা হামলা শুরু করেছি।” তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়া শান্তি চায়, কিন্তু আক্রমণের মুখে প্রতিরোধ করতেই হবে।’

থাই সামরিক বাহিনীর অভিযোগ কম্বোডিয়া কামান, রকেট লঞ্চার ও বোমা বহনকারী ড্রোন ব্যবহার করছে। পাঁচটি সীমান্ত প্রদেশে সংঘর্ষ চলছে।

থাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, “সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই।”

থাই পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিহাসাক ফুয়াংকেটকেও বলেন,
“কম্বোডিয়া আলোচনায় প্রস্তুত বলে দাবি করলেও মাঠ পর্যায়ে তাদের আচরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে: সংঘর্ষে বেসামরিক জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে। স্কুল, ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো ধ্বংসের আশঙ্কা রয়েছে। দুই দেশকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি সীমান্ত মন্দির এলাকায় কয়েক দফা মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় দেশের সৈন্য নিহত হয়। এরপর জুনে দুই দেশ বাণিজ্য, ইন্টারনেট, জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দিলপ দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে নামে।

জুলাই মাসে দুই দেশের মধ্যে পাঁচ দিনের সংঘর্ষে ৪৮ জন নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়ার মধস্থ্যতায় যুদ্ধবিরতি হয়। পরে ডিসেম্বর আবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে নতুন সংঘর্ষে জড়ায় দুই দেশ।