ভৌতিক সিনেমাপ্রেমীদের জন্য ঢাকায় আসছে ‘দ্য কনজ্যুরিং: লাস্ট রাইটস’

হলিউডের ভৌতিক সিনেমার জগতে ‘দ্য কনজ্যুরিং’ ফ্র্যাঞ্চাইজি একটি সুপরিচিত নাম। ভয়ের সিনেমা যারা পছন্দ করেন, তাদের কাছে এই সিরিজ মানেই অন্যরকম অভিজ্ঞতা। শুধু হরর ঘরানাই নয়, পুরো হলিউডেই ওয়ার্নার ব্রাদার্সের সবচেয়ে সফল সিরিজগুলোর মধ্যে অন্যতম এটি।

এ পর্যন্ত কনজ্যুরিং ইউনিভার্সে ৮টি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যার মধ্যে ‘দ্য কনজ্যুরিং’, ‘দ্য নান’, ‘অ্যানাবেল’ সিরিজসহ প্রায় প্রতিটি সিনেমাই বক্স অফিসে সাফল্য পেয়েছে।

নতুন কিস্তি- দ্য কনজ্যুরিং: লাস্ট রাইটস

২০২১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য কনজ্যুরিং: দ্য ডেভিল মেড মি ডু ইট’ ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজির সর্বশেষ সিনেমা। করোনা মহামারীর সময় মুক্তি পেলেও ছবিটি আশাতীত সাফল্য পায়। প্রায় চার বছর পর এবার ফিরছে নবম কিস্তি ‘দ্য কনজ্যুরিং: লাস্ট রাইটস’।

ছবিটি আন্তর্জাতিকভাবে মুক্তি পাচ্ছে ৫ সেপ্টেম্বর। একই দিনে বাংলাদেশের দর্শকেরাও স্টার সিনেপ্লেক্সে দেখতে পাবেন ছবিটি।

কাদের দেখা যাবে পর্দায়?

এই সিরিজের মূল আকর্ষণ সবসময়ই ছিলেন এড ও লরেন ওয়ারেন দম্পতি, যারা বাস্তব জীবনের প্যারানরমাল তদন্তকারী এবং লেখক। এই চরিত্রে আবারও ফিরছেন- প্যাট্রিক উইলসন (এড ওয়ারেন) ও ভেরা ফার্মিগা (লরেন ওয়ারেন)।

তাদের সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন মিয়া টমলিনসন ও বেন হার্ডি।

পরিচালনায় কারা?

পরিচালক হিসেবে আছেন মাইকেল শ্যাভস, যিনি আগের ছবিটিও পরিচালনা করেছিলেন। প্রযোজক হিসেবে ফিরেছেন জেমস ওয়ান এবং পিটার সাফরান। এছাড়া স্ক্রিপ্ট লিখেছেন ডেভিড লেসলি জনসন-ম্যাকগোল্ড্রিক, আর গল্পের পুনর্লিখনে কাজ করেছেন ইয়ান গোল্ডবার্গ ও রিচার্ড নাইং।

যা নিয়ে সিনেমার কাহিনি

এই সিনেমার গল্প নেওয়া হয়েছে ১৯৮৬ সালের পেনসিলভানিয়ার স্মার্ল পরিবারে ঘটে যাওয়া বাস্তব ঘটনার ওপর।

পরিবারটি তাদের বাড়িতে অদ্ভুত গন্ধ, অস্বাভাবিক শব্দ, কালো ছায়া ও শারীরিক আঘাতের মতো ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়।

তারা বিশ্বাস করতেন, এক বা একাধিক শয়তান তাদের ওপর আক্রমণ চালাচ্ছে। জ্যাক ও জ্যানেট স্মার্ল এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে বললে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

পরে তারা এ নিয়ে একটি বইও প্রকাশ করেন। এবার এই কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত হলো ‘দ্য কনজ্যুরিং: লাস্ট রাইটস’।

কেন বিশেষ এই সিনেমা?

‘দ্য কনজ্যুরিং: লাস্ট রাইটস’ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে বাড়তি উত্তেজনা রয়েছে। কারণ- এটি হতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ কিস্তি।

পরিচালক মাইকেল শ্যাভস বলেছেন, এই সিনেমা কনজ্যুরিং সিরিজকে ভিন্নধর্মী সমাপ্তি দেবে।

বাস্তব ঘটনার ওপর নির্মিত হওয়ায় এর ভয়ের মাত্রা আরও বাস্তবসম্মত হবে।

বাংলাদেশে হরর সিনেমার প্রতি আগ্রহ আগেই প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে স্টার সিনেপ্লেক্সে হরর সিনেমাগুলো নিয়মিতই ভালো দর্শক টেনে আনে। তাই ‘দ্য কনজ্যুরিং: লাস্ট রাইটস’ মুক্তি পাওয়া ভৌতিক সিনেমাপ্রেমীদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি বড় চমক হতে যাচ্ছে।

কনজ্যুরিং ফ্র্যাঞ্চাইজির সাফল্য

প্রথম কনজ্যুরিং (২০১৩): বিশ্বজুড়ে ৩১৯ মিলিয়ন ডলার আয়।

অ্যানাবেল সিরিজ: ডল–ভিত্তিক এই কাহিনিগুলোও ভক্তদের কাছে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।

দ্য নান (২০১৮): সর্বাধিক আয় করা সিনেমা, ৩৬৫ মিলিয়ন ডলার আয়।

দ্য ডেভিল মেড মি ডু ইট (২০২১): করোনা সময়েও ২০০ মিলিয়ন ডলার আয়।

এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, প্রতিটি কিস্তিই দর্শকের কাছে সফল হয়েছে। ফলে যারা ভৌতিক সিনেমা পছন্দ করেন, তাদের জন্য ২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় চমক হতে যাচ্ছে ‘দ্য কনজ্যুরিং: লাস্ট রাইটস’।