রাবি প্রতিনিধি:
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) দ্বাদশ সমাবর্তনকে ঘিরে সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। সমাবর্তনের তারিখ পুনর্বিবেচনাসহ তিন দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানা হলে সমাবর্তন বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
তাদের অন্য দাবি দুটি হলো – সমাবর্তনে অতিথি পুনর্বিবেচনা করে শিক্ষা উপদেষ্টার পরিবর্তে প্রধান উপদেষ্টা বা বিকল্প কাউকে অতিথি করা এবং পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ দেওয়া।
রেজিস্ট্রেশন করা বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসকে অতিথি করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু তা পরিবর্তন করে এখন শিক্ষা উপদেষ্টাকে অতিথির কথা বলা হচ্ছে ।
এছাড়াও সাপ্তাহিক কর্মদিবসে সমাবর্তনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে, এতে অধিকাংশ শিক্ষার্থীর আপত্তি থাকায় তারিখ পুনর্বিবেচনা করা উচিত। এছাড়াও যে সময় রেজিস্ট্রেশর করা হয়েছে তখন অনেকের আর্থিক অবস্থা অনুকূলে না থাকায় রেজিস্ট্রেশন করতে পারেনি।
বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকায় তারা সমাবর্তনে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তাই পুনরায় রেজিস্ট্রেশনের সুযোগের দাবি শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৪-১৫ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্বাক আদিত্য বলেন, ৬০, ৬১ এবং ৬২ ব্যাচের আমাদের মেসেঞ্জার গ্রুপ আছে সেখানে আমরা এ বিষয়গুলো দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা করেছি। সকল ব্যাচেরই দাবি অতিথি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের সাথে কথা হয়েছে বলে জানান অর্বাক আদিত্য। উপ উপাচার্য জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে এটি আর পরিবর্তনের সুয়োগ নেই। এখানে সাবেক শিক্ষার্থীদের কাজ হলো শুধু সার্টিফিকেট নেওয়া।
অর্বাক আদিত্য আরও বলেন, আমরা তিন ব্যাচ মিলেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছি আমাদের দাবিগুলো মেনে না নেওয়া হলে সমাবর্তনও বর্জন করা হবে।
সার্বিক বিষয়ে সমাবর্তন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক বেলালের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা এখানো লিখিত কোনো আবদেন পাইনি। আবেদন পেলে বিবেচনা করে দেখা হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২১ অক্টোবর স্থাগিত হওয়া সমাবর্তনের নতুন তারিখ ১৭ ডিসেম্বর ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে কয়েকবার সমাবর্তনের তারিখ ঘোষণা করে পরে স্থগিত করা হয়।
