স্পোর্টস ডেস্ক:
বাংলাদেশের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএল থেকে হঠাৎ বাদ পড়া, নিরাপত্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ দলের ভারত সফর না করা, আর তার মধ্যেই বড় চমক।
মুস্তাফিজুর রহমানকে সরাসরি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ফ্র্যাঞ্চাইজি লাহোর কালান্দার্স। ক্রিকেট মাঠের বাইরের টানাপোড়েনের মধ্যেই যেন নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো ‘ফিজ’-এর ক্যারিয়ারে।
এর আগে ২০১৬ ও ২০১৮ মৌসুমে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে খেলেছিলেন মুস্তাফিজ।
দুই পক্ষের সেই পুরোনো সম্পর্কের সূত্র ধরেই এবার নিলামের পথে না গিয়ে সরাসরি চুক্তিতে বাঁহাতি এই পেসারকে দলে টেনে নেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে লাহোর কালান্দার্স মুস্তাফিজকে ‘পরিবারে ফিরে আসা সদস্য’ হিসেবে বর্ণনা করে জানায়, তাদের বাংলাদেশি ভাই আবারও কালান্দার্স শিবিরে।
মুস্তাফিজকে দলে নিতে লাহোর কালান্দার্সের খরচ হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ টাকারও বেশি। পিএসএলের এবারের আসরে এটি অন্যতম আলোচিত ডিরেক্ট সাইনিং হিসেবেই ধরা হচ্ছে।
এই চুক্তির পেছনের প্রেক্ষাপটও কম নাটকীয় নয়। আসন্ন আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে খেলার কথা থাকলেও টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই বিসিসিআইয়ের নির্দেশে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন মুস্তাফিজ।
এরপর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে ভারতীয় মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
সেই সিদ্ধান্তে সমর্থন জানায় পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)ও। এমনকি বিশ্বকাপে অংশ নিলেও ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।
আইপিএল থেকে বাদ পড়ার পর পিএসএল নিলামের জন্য নিজেকে নিবন্ধন করেছিলেন মুস্তাফিজ। তখনই পিএসএলের অফিসিয়াল পেজে তার ছবি পোস্ট করে লেখা হয়, ‘মুস্তাফিজুর রহমান পিএসএলের নতুন যুগে স্বাগত।’
তবে শেষ পর্যন্ত নিলামের অপেক্ষায় না রেখে সাবেক দলই তাকে সরাসরি দলে ভিড়িয়েছে।
পরিসংখ্যানের দিক থেকেও লাহোরের আস্থার কারণ আছে। ২০১৮ সালে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে মাত্র পাঁচ ম্যাচে ৬.৪৩ ইকোনমি রেটে চার উইকেট নিয়েছিলেন মুস্তাফিজ। সাম্প্রতিক ফর্ম, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আর ডেথ ওভারে কার্যকারিতার কারণে তাকে ঘিরে আগ্রহ ছিল একাধিক দলেরই। তবে সব জল্পনা-কল্পনার ইতি টেনে শেষ পর্যন্ত পরিচিত ঠিকানাতেই ফিরলেন ‘কাটার মাস্টার’।
