যুদ্ধ নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ালে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ আনা উচিত : ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধ নতুন করে আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

এর ফলে শুধু ইরান ও ইসরায়েল নয়, উপসাগরীয় অঞ্চল এবং ইরাকেও সংঘাতের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে।

আল জাজিরার সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ইসরাইল নতুন করে ইরানের রাজধানী তেহরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। একই সময়ে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাজধানীর আকাশে “শত্রু লক্ষ্যবস্তু” প্রতিহত করার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদ সংস্থা মেহর।

এদিকে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে ইসরাইলের মধ্যাঞ্চলে রাত দেড়টার দিকে সাইরেন বেজে ওঠে। দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ১২ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খোলা জায়গায় পড়ায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে একটি জ্বালানি ট্যাংকে আগুন লাগে।

দুবাই মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইসরাইল একই সময়ে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে এবং সীমান্তে ট্যাংক ও সেনা মোতায়েন বাড়িয়েছে।

লেবাননে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৮৫০ জনে পৌঁছেছে। নিহতদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা আকাশে উড়ে আসা কয়েকটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। একই সময়ে ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও রকেট ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশন রয়েছে।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী মোহাম্মদ নেইনি জানিয়েছেন, যুদ্ধের পরও তাদের বেশিরভাগ অস্ত্রভাণ্ডার অক্ষত রয়েছে।

তার দাবি, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান প্রায় ৭০০টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৬০০ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে আরও আধুনিক অস্ত্র এখনো ব্যবহার করা হয়নি।

মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট বলেছেন, বাজারে আতঙ্ক কমাতে তিনি আশা করছেন আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই যুদ্ধ শেষ হতে পারে।

তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের দাবি নাকচ করে বলেছেন, তেহরান যুদ্ধবিরতির আলোচনা চাইছে- এমন দাবি সত্য নয়। দেশটি আত্মরক্ষার লড়াই চালিয়ে যাবে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু গণমাধ্যমের সমালোচনা করে বলেছেন, ভুল তথ্য ছড়ানোর কারণে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা উচিত।

মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিস্তার লাভ করা এই সংঘাতের কারণে তেল সরবরাহ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ বাড়ছে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।