‘কঠোর’ হামলার হুমকি ট্রাম্পের, আত্মসমর্পণ করবে না তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠিন’ হামলার হুমকি দিয়েছেন। তবে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো অবস্থাতেই আত্মসমর্পণ করবে না।

যুদ্ধের দ্বিতীয় সপ্তাহে পৌঁছানো এই সংঘাতে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবির মুখেও ইরান কখনো নতি স্বীকার করবে না।

তেহরান ইতোমধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে ইসরাইল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানছে।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান নাকি তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ‘আত্মসমর্পণ করেছে’।

তবে পেজেশকিয়ান বলেছেন, যদি আক্রমণ ওই দেশগুলোর ভেতর থেকে শুরু না হয়, তাহলে ইরান আঞ্চলিক কোনো দেশকে লক্ষ্য করবে না।

এদিকে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভ্যুলেশনারি গার্ড ক্রপস (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছে, ইরানের ওপর হামলা চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সব সামরিক ঘাঁটি এবং স্বার্থকে ‘প্রধান লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

সংঘাতের প্রভাব ইতোমধ্যে লেবাননেও পড়েছে। ইসরাইলি বিমান ও স্থল হামলায় লেবাননের পূর্বাঞ্চলের শহর নাবিতচিতে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়েছেন।

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলেও উত্তেজনা বাড়ছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটির দিকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শায়বাহ তেলক্ষেত্রের দিকে আসা ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

পরিস্থিতির ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েত তাদের তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি কয়েত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বলেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা এবং ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার হুমকির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে পরিস্থিতি উন্নত হলে আবারও উৎপাদন বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে তারা বলেছে, দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণের জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

চলমান এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।