মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইল সংঘাত দ্রুত শেষ হতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি ছাড়াই আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধের অবসান ঘটতে পারে।
অন্যদিকে, কুয়েত জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে বড় ধরনের আগুন লেগেছে।
একই সময়ে বাহরাইনেও একটি শিল্প স্থাপনায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যা আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা ইরানের বিভিন্ন শহরে অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে ইসফাহান ও ফারোখশহরের শিল্প ও ওষুধ কারখানাগুলোতে আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।
এতে ইরানের চিকিৎসা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লেগেছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তারা তেহরানে সরকারি স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি লেবাননের বৈরুতেও বিমান হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র মধ্য ইসরাইলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। যদিও এতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে একাধিক স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় তার কোনো আস্থা নেই। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন থেকে বার্তা এলেও বর্তমানে কোনো আলোচনার প্রক্রিয়া চলছে না।
এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ দক্ষিণ লেবাননে কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সেখানকার ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হবে এবং বাস্তুচ্যুতদের ফেরার সুযোগ দেওয়া হবে না।
সংঘাতের প্রভাব শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় একটি ড্রোন হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
এছাড়া পশ্চিম তীরে ইসরাইলি অভিযানে এক ফিলিস্তিনি কিশোর আহত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বিশ্বজুড়েই জ্বালানি, খাদ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে।
