যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা, পাল্টা হামলার হুমকি তেহরানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানের চলমান যুদ্ধে উত্তেজনা আরও বাড়ছে। এ অবস্থায় যুদ্ধ থামাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করেছে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিসর ও সৌদি আরব।

দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠকে বসেছেন, যেখানে যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত করার উপায় খোঁজা হচ্ছে।

এদিকে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-সম্পর্কিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে লক্ষ্য করে তারা পাল্টা হামলা চালাতে পারে।

একই সঙ্গে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ও বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে।

ইরানের রাজধানী তেহরানে রাতভর ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হামলায় শুধু সামরিক স্থাপনা নয়, বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

গিলান প্রদেশের শাফট এলাকায় একটি আবাসিক ভবনে হামলায় অন্তত ২ জন নিহত ও ৪ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া হরমোজগান প্রদেশের বান্দার খামিরে একটি পিয়ারে হামলায় ৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় আরেক দফা হামলা চালিয়েছে, যেখানে অস্ত্রভাণ্ডার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সিরিয়ার দিক থেকে লেবাননে প্রথমবারের মতো স্থল অভিযান চালানোর দাবি করেছে ইসরাইল। বিতর্কিত শেবা ফার্মস এলাকায় এই অভিযান চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে।

উত্তর ইসরাইলে হিজবুল্লাহর রকেট হামলাও অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। যদিও সর্বশেষ হামলায় বড় ধরনের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা ইসরাইলের দিকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি এখনো পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়ানোর ইঙ্গিত নয়, বরং সতর্কবার্তা।

তবে যদি তারা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালী অবরুদ্ধ করে, তাহলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম কারখানা ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বড় অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানির স্থাপনায় আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরাইলের তেল আবিবসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে। লেবাননের বৈরুতেও ইসরাইলের হামলায় সাংবাদিক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে মানুষ রাস্তায় নেমেছে।