মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব এবার আরও বিস্তৃত হয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। কুয়েত, সৌদি আরব ও কাতারে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে।

এতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কুয়েত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববারও কুয়েতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

দেশটির সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জানিয়েছে, কুয়েতের আকাশসীমায় প্রবেশ করা শত্রুপক্ষীয় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কাজ করছে।

আকাশে যে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে, সেগুলো মূলত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে হামলা প্রতিহত করার ফল।

একই সময়ে সৌদি আরব ও কাতারও নতুন করে হামলার সতর্কতা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয় করার তথ্য জানিয়েছে।

পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েতের জাতীয় তেল কোম্পানি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে অপরিশোধিত তেল উৎপাদন কমানোর ঘোষণা দিয়েছে।

দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, জ্বালানি স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। কারণ বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো এই অঞ্চলে অবস্থিত।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ইতিমধ্যে ইরান, ইসরাইল, লেবানন ও ইরাকের বাইরে বিভিন্ন দেশে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এখন উপসাগরীয় দেশগুলোতেও হামলার ঘটনা বাড়তে থাকায় পুরো অঞ্চলজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি এই হামলা ও পাল্টা হামলার ধারা অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু সামরিক সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না-বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।